তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বানভাসিদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের কোনো ত্রাণ এখনও পৌঁছায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, যদি উজানে ভারি বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে দ্রুত তিস্তার পানি নেমে যাবে। বুধবার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। এখন পর্যন্ত নতুন করে নদীতে ভাঙন দেখা দেয়নি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত তিন হাজার ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবারের বরাদ্দ হয়েছে এবং তা বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য মতে, জেলার হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারি ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে। এই বানভাসিদের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ দিয়েছে তা চাহিদার চেয়ে একেবারেই কম।
অপরদিকে বানভাসিদের মানুষদের সুপেয় পানির অভাবসহ খাবার, পয়ঃনিষ্কাশন ও গোখাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
আদিতমারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারোয়ার আলম জানান, মহিষ খোঁচা ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছেন।
অপরদিকে লালমনিরহাট সদর পিআইও মশিউর রহমান জানান, দুর্গত মানুষদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসক আবু জাফর, উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন ও খুনিয়াগাছ ইউপি চেয়ারম্যান বাদলসহ অনেকে বন্যা কবলিত বানভাসি এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
আরও পড়ুন: ইভিএম নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে তদন্ত শুরু
এ ব্যাপারে হাতিবান্ধা এবং কালীগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। তাই ওই এলাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে হাতিবান্ধার জাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জানান, ওই ইউনিয়নে দুই হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী সরেজমিনে এসে জানান, বানের পানি ওঠায় আপাতত সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
একাত্তর/এসি