পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর তাঁতেরকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপ নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরু হচ্ছে আজ।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বুধবার (৩ আগস্ট) সরেজমিন তদন্ত করতে আসছেন বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে আওয়ামী লীগ নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের পর স্থগিত করা হয় ওই ইউপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন।
উল্লেখ, গত ২৩ জুলাই আওয়ামী লীগের ওই ইউনিয়নের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইব্রাহিম ফারুকের উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারের একটি উঠান বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জোবায়দুল হক রাসেল বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেছিলেন ‘ভোট হবে ইভিএমে, কে কোথায় ভোট দেবে তা কিন্তু আমাদের কাছে চলে আসবে। অতএব ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই, টেনশনেরও কিছু নাই। ’
এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যা ২৪ জুলাই ৭১ টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ইলেট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়।
আওয়ামী লীগ নেতার এমন বক্তব্য নিয়ে সব মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিব্রত হন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও। অপরদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিয়ে দেখা দেয় শঙ্কা।
ওই রাতে একাত্তর জার্নালে আওয়ামী লীগ নেতা জোবায়দুল হক রাসেলকে সংযুক্ত করে তার বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। বিষয়টা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: শেরপুর সীমান্তে হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নজরে আসার পর চেয়ারম্যান পদের ভোট স্থগিত করে গত ২৫ জুলাই (সোমবার) প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি।
এদিকে ভোট স্থগিত হলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শুক্র ও শনিবার অটোগাড়িতে করে নৌকার পক্ষে মাইকিং করা হয়। এ বিষয়েও চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম মহসীন রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন,‘খবর পেয়ে মাইকিং বন্ধ করা হয়েছে। সব বিষয়ের তদন্ত হবে।’
গত ৭ ফেব্রুয়ারি নাজিরপুর ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. আমির হোসেন ব্যাপারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি শপথ নেওয়ার আগেই ১৯ ফেব্রুয়ারি হৃদ্ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। একই ইউপির দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমান ৩ মার্চ মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মারা যান। এ কারণে ওই শূন্য দুটি পদে ২৭ জুলাই উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। মোট ছয়জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত হলেও ২৭ জুলাই (বুধবার) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
একাত্তর/এসি
