টিনশেডের একটি আড়ত বদলে দিলো শত কৃষকের জীবন

মাত্র ছোট্ট একটা টিনশেডের আড়ত বদলে দিয়েছে শত শত কৃষকের পণ্য বিক্রির দুশ্চিন্তা। বছরের পর বছর রাস্তার পাশে পাইকারদের জন্য ফসল নিয়ে অপেক্ষায় থাকতো হতো। 

এতে ক্রেতা সংকটে ন্যায্য মূল্য পেত না কৃষক। কিন্তু এখন আড়ত প্রতিষ্ঠায় পেঁপেসহ কৃষিপণ্য নিয়ে এসে আগের চেয়ে ভাল দাম পাচ্ছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর এর কৃষকরা। 

একতাই বল। সেই বল কতোটা শক্তিশালী হলে শত শত মানুষের জীবন বদলে দেয়া যায়; তারই ছোট্ট একটা উদাহরণ একটি টিনশেডের আড়ত।

চর নয়াডাঙ্গী একতা কাঁচা ও পাকা মালের আড়ত। মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এই আড়ত এখন হাজারও কৃষকের কৃষিপণ্য বিক্রির মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। 

২৭ জনের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একতা আড়ত। সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে অর্ধশত মানুষের। আড়তে সকাল থেকে পেঁপেসহ নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে হাজির হন কৃষকরা।

ওজন করে বস্তা সাজিয়ে রাখার পর সন্ধ্যায় পাইকাররা এলে শুরু হয় কেনার ডাক। ডাকে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয় কৃষকের ফসল।

কৃষকের গাড়ি থেকে বস্তাবন্দী ফসল নামিয়ে ওজন করা ও বিক্রি শেষে ট্রাকে তোলার জন্য আড়তে কাজ করেন ১৫ জন শ্রমিক। 

পণ্য ওজন করে হিসাব রাখা ও ক্রেতা বিক্রেতাদের টাকা পয়সা বুঝিয়ে দেয়াসহ সবমিলিয়ে ৫০ জনের কাজের সুযোগ হয়েছে এই আড়তে।

মধ্যরাত পর্যন্ত আড়তে বেচাকেনা চলে। তাইতো খাওয়া দাওয়ার দোকান চলছে বেশ ভাল। তাই এই কর্মযজ্ঞকে ঘিরে গড়ে উঠেছে খাবারসহ নানা কিছুর দোকান। 

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় কৃষকদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই আড়ত সারাদেশের জন্যেই হতে পারে উদাহরণ। 


একাত্তর/এসজে