বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে আরো ৪৮ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্ধার করা হলো ৫৯ জেলেকে।
এছাড়া দক্ষিণ আইচা এলাকা থেকে ৩টি মাছ ধরার ট্রলারও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এখনো একজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তার নাম আবুল কালাম।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট চরফ্যাশনের চরকচ্ছপিয়া মৎস্য ঘাট থেকে ১৪ জন জেলেসহ ‘মায়ের দোয়া’ নামে আলমগীর মাঝির ফিশিং ট্রলার সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যায়। গত ১৭ আগস্ট বৈরি আবহাওয়ার কবলে পড়ে ভারতের কাছাকাছি চলে যায় এটি। পরবর্তীতে রোববার বিকেলে কোস্টগার্ডের একটি টিম টহলরত অবস্থায় চরপাতিলার কাছাকাছি থেকে ১৪ জন জেলেসহ ফিশিং ট্রলারটি উদ্ধার করে।
ট্রলারটি উদ্ধারের পর জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পরে প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হয়।
উদ্ধারকৃত সকলেই চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার, চরকুকরি-মুকরি ও চরমানিকা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে ‘এফবি হাওয়লাদার মাঝির ট্রলার’ ১৫ জন জেলেসহ ভারতের সীমান্ত এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে। এ সময় ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।
তাছাড়া চরফ্যাশনের ১৯ জেলেসহ ‘এমবি রিয়াজ’ ঝড়ের কবলে পড়ে। এ ট্রলারটি এফবি হাওয়লাদার মাঝির ট্রলার ভাসতে দেখে তাদের টেনে চরপাতিলার এলাকায় সাগরে মোহনায় নিয়ে আসে। পরে ট্রলার দুটো কোস্টগার্ড রোববার সন্ধ্যার পর উদ্ধার করে চরফ্যাশনে নিয়ে আসে।
উদ্ধার হওয়া ফিশিং ট্রলার ৩টি ও জেলেরা ভোলার দক্ষিণ আইচা ও চরকচ্ছপিয়া এলাকার।
ভোলার লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পল্লব কুমার হাজরা সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার রাতে ঝড়ে লালমোহনের ৬টি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬০ জন মাঝি মাল্লা নিখোঁজ হয়।
নিখোঁজদের মধ্যে ফারুক মাঝির ট্রলারের ৪ জেলেকে ভারতীয় নৌ-বাহিনী উদ্ধার করেছে। তাদের বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যান্য জেলেদের সুন্দরবন ও হাতিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া জেলেদের চরফ্যাশন সামরাজ ঘাটের একটি ট্রলারে করে নিয়ে আসা হচ্ছে।
একাত্তর/আরএ/এসি