পরিমাণে কম দেয়ার অভিযোগ এনে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের হাতে ২০ হাজার টাকার রশিদ দিয়ে এক লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের এক সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন অবশ্য বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীর হাতে আত্মসাৎকৃত এক লাখ টাকা ফেরতও দেন।
আর এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান পরিচালনাকারী ওই কর্মকর্তার নিজস্ব দালাল হিসেবে পরিচিত মো. রিদুয়ানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান।
এরপর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের বিরুদ্ধে জরিমানার নামে দালালের মাধ্যমে টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এসে জরিমানার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী রামুর নাহার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এসময় তিনি অতিরিক্ত টাকা জরিমানা করে আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে মুঠোফোনের কল রেকর্ড এবং ভিডিও চিত্রও উপস্থাপন করেন।
নাহার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের নেতৃত্বে একটি দল নাহার ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করতে আসে। এসময় তার সঙ্গে কিছু আনসার সদস্য আর রিদুয়ান নামের এক ব্যক্তি ছিলেন। পরে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জ্বালানি তেলের পরিমাপে ত্রুটি রয়েছে বলে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেন এবং পরে অফিসে যোগাযোগের জন্য বলেন।
তিনি আরও জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে গিয়ে ওই সহকারী পরিচালককে না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এক লাখ টাকা রিদুয়ানকে এবং ২০ হাজার টাকা অফিসে জমা দিতে বলেন। তারপর রিদুয়ানকে ডেকে তার হাতে এক লাখ টাকা এবং বাকি ২০ হাজার টাকা অফিসের অন্য এক কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে একটি রশিদ সংগ্রহ করেন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল্লাহ।
আরও পড়ুন: পুলিশ পরিচয়ে হাতকড়া পরিয়ে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই
সংবাদ সম্মেলনে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল্লাহ জানান, অফিসের কর্মকর্তা মাত্র ২০ হাজার রশিদ দেয়ায় তার সন্দেহ হয়। তাই এর পরদিন বুধবার পুনরায় রিদুয়ানকে এক লাখ টাকা দেয়ার বিষয়টি রিদুয়ান ও ওই সহকারী পরিচালকের সাথে মুঠোফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে রেকর্ড করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের সাথে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনভাবেই তাতে সাড়া দেননি।
একাত্তর/জো