থেমে থেমে গুলির শব্দে আতঙ্কে তুমব্রু সীমান্তের মানুষ

শনিবার সকাল থেকে আবারো থেমে থেমে মিয়ানমারের ভেতরে চলা গুলির শব্দ শুনেছে তুমব্রু সীমান্তের মানুষ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার মানুষরা। 

সীমান্তে গোলাবর্ষণ ও মর্টার শেল নিক্ষেপে হতাহতের ঘটনায়ে আশ্রয় ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন।

তবে, আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মধ্যেই কুতুপালং স্কুলে পরীক্ষা দিয়েছেন ঘুমধুমের চার শতাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে নিরাপদেই ফিরে গেছেন নিজেদের বাড়িতে। 

শুক্রবার রাতে ঘুমধুম ইউনিয়নের কোনারপাড়া এলাকায় শূন্য রেখায় থাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কয়েকটি মর্টার শেল বিস্ফোরণ হয়। এতে এক কিশোর নিহত ও পাঁচ রোহিঙ্গা আহত হন।

নিহত কিশোর ইকবাল শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরের মুনির আহমদের ছেলে। আহতরা হলেন সাহদিয়া, আনাস, নবী হোসেন, জাহিদ আলম ও আহত অপরজনের নাম জানা যায়নি। 

হতাহতরা সবাই তুমব্রু সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, রাত ৮টার দিকে হঠাৎ মর্টার শেল আঘাত হানে। পর পর তিনটি মর্টার শেল বিস্ফোরিত হয়।

এই ঘটনায় ইকবালসহ ছয়জন আহত হন। তাদের উখিয়ার কুতুপালং হাসপাতালে নিয়ে গেলে ইকবাল মারা যান। অন্যদের সেই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহত রোহিঙ্গা কিশোর ইকবালের মৃতদেহ নিতে এসে হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। তারা জানান, সীমান্তে থেমে থেমে গুলি চলায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। 

সীমান্ত এলাকার মানুষ বলছেন, শুধু মর্টারশেল বা গুলির ভয় নয়, স্থলমাইন বিস্ফোরণের আতঙ্ক আরো বেশি। তাই দিনের বেলা কাজ বন্ধ আর রাত কাটছে না ঘুমিয়ে।

প্রশাসন বলছে, মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার-শেল এবার বাংলাদেশ সীমান্তের ৩০০ গজ ভিতরে এসে পড়েছে। ফলে, সেখানকার স্থানীয়দের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পর শূন্য রেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই, তবে যারা আছে তাদের অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন।

বিজিবির পরিচালক অপারেশন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান জানিয়েছেন, গোলাবর্ষণে হতাহতের ঘটনায় মিয়ানমারকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে নতুন করে কেউ যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে এজন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।

তুমব্রু সীমান্তের বিপরীতে শূন্য রেখায় পাঁচ বছর ধরে আশ্রয় ক্যাম্প গড়ে তুলে বসবাস করছেন মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত চার হাজার ২০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা। 

আশ্রয় ক্যাম্প ঘেঁষে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া ও রাখাইন রাজ্যের একাধিক পাহাড় রয়েছে। সেসব এলাকায় মিয়ানমার সেনারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: স্ত্রীসহ অতর্কিত হামলার শিকার বরকত উল্লাহ বুলু

এদিকে শুক্রবারের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকা পরীক্ষা কেন্দ্রটি সরিয়ে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেই স্কুলে শনিবার এসএসএসি পরীক্ষা দিচ্ছেন সীমান্ত পাড়ের ৪০০ বেশি পরীক্ষার্থী। তবে তাদের মধ্যেও এক ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। 

শুক্রবার রাতে গোলাবর্ষণে হতাহতের ঘটনা ঘটার পরপরই তাৎক্ষণিক নোটিসে কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার কেন্দ্র প্রস্তুত করে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করে জেলা প্রশাসন। 

আর বান্দরবন প্রশাসন জানিয়েছে, কুতুপালং, বালুখালী, উখিয়া এবং ঘুমধুম এই চারটি কেন্দ্রে পরীক্ষা চলছে। এদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই পরীক্ষার্থী হলো উখিয়ার বাকিরা ঘুমধুমের। 


একাত্তর/এসি