মানিকগঞ্জ জেলা শহরে যাওয়ার অন্যতম আন্ধারমানিক-জয়নগর সড়কটির বেহাল দশা। সড়কের বেশীরভাগ জুড়েই রয়েছে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় সড়কটিতে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে শত শত যানবাহন। গর্তে পড়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
সরেজমিন জানা যায়, মানিকগঞ্জ পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের আন্ধারমানিক–জয়নগর সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার শত শত মানুষ জেলা শহরে আসা যাওয়া করে। মানিকগঞ্জের কয়েকটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কানিজ ফাতেমা স্কুল, আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল, মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ ছাত্রছাত্রীও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে এই পথে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বেশীরভাগ স্থানে রয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এসব গর্তে যানবাহন পড়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বৃষ্টির সময় চলাচলকারীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এই সড়ক দিয়ে হরিরামপুর উপজেলার সব ধরনের কৃষিপণ্য আনা নেয়া করা হয়। সড়কের কারণে পণ্য আনা-নেয়ার খরচ বেড়ে যায়। এতে বাজারে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যায়।
আন্ধারমানিক-জয়নগর সড়কে যাতায়াতকারী মানুষজন ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা হলে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে মনে হয় এই সড়কের কোন মা-বাবা নেই। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ছোটবড় যানবাহন চলাচল করে। প্রতিনিয়তই দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। সরকারের উন্নয়ন খাদের বহু বরাদ্দ থাকলেও এই সড়ক নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই।
সিএনজি চালক শহিদ মিয়া বলেন, আন্ধারনমানিক-জয়নগর সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জেলা শহর থেকে যাত্রী নিয়ে হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করি। কিন্তু রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। মাঝেমধ্যে গর্তে গাড়ির চাকা পড়ে উল্টে যায়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই বেহাল দশা দেখে আসছি। কিন্তু স্থায়ীভাবে মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই।
আন্ধারমানিক এলাকার বাসিন্দা সোহেল হোসেন বলেন, জেলা সদরের হাসপাতাল ও মুন্নু জেনারেল হাসপাতালের যাওয়ার জন্য এই সড়ক ব্যবহার করা হয়। সড়কে খানাখন্দের কারণে রোগীদের নিয়ে যাতায়াতে অনেক অসুবিধা হয়। ডেলিভারি রোগীরা পড়েন বেশী বিপাকে।
কানিজ ফাতেমা স্কুলের শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনা-নেয়ার জন্য সাতটি বাস চলাচল করে। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে থাকে। রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থী বহনকারী বাস চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে।
শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুল বাস করে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা সড়ক দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। সামান্য একটু বৃষ্টি হলে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। বড় বড় গর্তে বাসের চাকা পড়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আসলে এই রাস্তাটিকে বাইপাস হাইওয়ে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মহাসড়কের বড় বড় গাড়িগুলো এই রুট ব্যবহার করায় রাস্তাটি টেকসই হচ্ছে না। বড় গাড়িগুলো এই রুটে যাতায়াত বন্ধ না করা গেলে রাস্তাটি আরও বেশি ভেঙে যাবে।
এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘ ৪/৫ বছর ধরে সড়কটির বেহাল দশা । এরই মধ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ দায়সারাভাবে রাস্তায় কিছু সংস্কার কাজ করেছে। তবে কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। স্থায়ীভাবে রাস্তাটি কার্পেটিংয়ের কাজ করার দাবি তাদের ।
তবে মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জগৎবন্ধু মণ্ডল বলেন, রাস্তাটি স্থায়ী সংস্কার করতে গেলে আরসিসিসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য বড় প্রকল্প ছাড়া অল্প বাজেটে কাজ সম্ভব নয়। সম্প্রতি রাস্তাটি কিছু অংশ সংস্কারের কাজ করা হলেও ঠিকাদার দরপত্র অনুযায়ী কাজ না করায় চূড়ান্ত বিল তাকে দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে সকল ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ
মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, রাস্তাটি পৌর এলাকার মধ্যে হলেও এটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা সড়ক ও জনপদ বিভাগের। মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ বিবেচনায় এরই মধ্যে পৌরসভার মাধ্যমে টেন্ডার দিয়ে ৩৭ লক্ষ টাকার সংস্কার কাজ করানো হয়েছে। ঠিকাদার মেরামত কাজ সঠিকভাবে কাজ না করায় তাদের বিলও আটকিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন সড়ক ও জনপথ বিভাগ স্থায়ীভাবে রাস্তার কার্পেটিং কাজ না করলে সড়কটি আমাদের আয়ত্ত্বে এনে আমরা নিজেরাই এটি করে ফেলবো।
একাত্তর/জো