সিনিয়র-জুনিয়র দণ্ডে খুন, আদালতে দোষ স্বীকার করলো দুই আসামি

নোয়াখালীর মাইজদীতে ডেকে নিয়ে বাসার সামনে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় দুই আসামি ইয়াসিন আরাফাত লাদেন ও আশরাফুল ইসলাম পিয়াস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহ আসামী আশরাফুল ইসলাম পিয়াসের এবং জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. ইকবাল হোসাইন ইয়াছিন আরাফাত লাদেনের জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন।

এর আগে এ মামলার পাঁচ আসামি বোরহান উদ্দিন রাকিব (২২), আশরাফুল ইসলাম পিয়াস (১৯), আরিফুল ইসলাম (১৬), শাহিদ আলম রিমন (১৬) ও ইয়াছিন আরাফাত লাদেনকে(১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত কলেজ ছাত্রের বাবা কামাল উদ্দিন এজাহার নামীয় আসামি আটজন এবং অজ্ঞাত আরো ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

নোয়াখালী মুখ্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হয় অভিযুক্তদের।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তিন আসামি রিমন, রাকিব ও আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। বিচারক এ বিষয়ে পরবর্তীতে শুনানি শেষে আদেশের দিন ধার্য করেন। পরে পাঁচ আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

সোমবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের চন্দ্রপুর মহল্লার শাহাজাহানের বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে একইদিন দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিহত মো. জোবায়ের (১৮) বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের আলাদিন নগরের কাজী বাড়ির কামাল উদ্দিনরে ছেলে এবং নোয়াখালীর সোনাপুর আইডিয়াল পলিটেকনিক্যালের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল।

তিনি পরিবারের সাথে নোয়াখালী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের চন্দ্রপুর মহল্লার শাহাজাহানের বাসায় ভাড়া থাকতো।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার সকালের দিকে জোবায়েরের সঙ্গে স্থানীয় রাকিব ও পিয়াসের ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের (১৬) সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে জোবায়েরকে তার বন্ধু লাদেন মুঠোফোনে বাসা থেকে ডেকে নেয়।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী জেলা পরিষদের সকল পদের নির্বাচন স্থগিত

পরে কিশোর গ্যাংয়ের ৮ থেকে ১০জন সদস্য রাকিবের নেতৃত্বে জোবায়েরকে তার বাসার সামনে রাস্তায় বেধড়ক পিটিয়ে ছুরিকাঘাত করে।

এতে জোবায়ের গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাইজদী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয়।


একাত্তর/আরএ