নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে এক বাকপ্রতিবন্ধি গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
রোববার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিতলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।
জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা হলেন- ভুক্তভোগী গৃহবধূ কাজল রেখার (৩২) স্বামী জুলহাস ও শাশুড়ি সাহেরা বেগম।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানান, ছয় বছর আগে কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়াপাড়া গ্রামের আম্বর আলীর বাকপ্রতিবন্ধি মেয়ে কাজল রেখার সাথে পার্শ্ববর্তী পিতলগঞ্জ গ্রামের মিম্বর আলীর ছেলে জুলহাসের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
তারা আরও জানান, বিয়ের সময় জুলহাসকে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র দেয় কাজল রেখার পরিবার। বর্তমানে তাদের জান্নাত নামে চার বছরের একটি মেয়ে আছে।
কাজল রেখার পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে আরও টাকার জন্য কাজল রেখাকে নির্যাতন শুরু করে আসছে স্বামী জুলহাস ও তার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় কয়েক দফা বিচার সালিশও বসে।
রোববার সকালে এলাকাবাসী বাড়ীর পাশে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে হাত-পা বাধা ও মুমূর্ষু অবস্থায় কাজল রেখাকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাকে স্থানীয় কেপিএস জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। অবস্থার অবনতি হলে কাজল রেখাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গৃহবধূর মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে গায়ে আগুন দিয়ে দিনমজুরের মৃত্যু
রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গৃহবধূর মা আকলিমা বেগম চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী জুলহাস ও শাশুড়ি সাহেরা বেগমকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকে চেষ্টা চলছে।