ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে নোয়াখালীর হাতিয়ায় বহু বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে অনেকের সহায় সম্বলটুকুও।
সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে মানুষ। তারা বলছেন, সোমবার থেকে তারা কোনো ধরনের খাবার পাননি। এগিয়ে আসেননি জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউ।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালীর দ্বীপ হাতিয়াতে দেখা গেলো পঞ্চাশোর্ধ্ব শামসুদ্দিন উচ্চ শব্দে কান্না করছে। তার সেই কান্নার সূরই বলে দিচ্ছিলো, এটি সব হারানোর কান্না।
আগের দিন সন্ধ্যায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের হিংস্র আঘাতে ভেসে গেছে তার ঘর। সেই সাথে তিল তিল করে গড়ে তোলা একটি সংসারের সব সম্বলটুকু।
ঘূর্ণিঝড় যখন তার চোখের সামনে দিয়ে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো তখন জীবন বাঁচাতে স্ত্রী আর সন্তান নিয়ে তিনি আশ্রয় নেন বাঁধে।
সেই থেকে স্ত্রী সন্তান নিয়ে এই বাঁধেই আছেন। কোন খাবারও জোটেনি। বলছেন, তাদের মুখে একমুঠু আহার দিতে এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি। অভুক্তই আছেন তারা।
সারা জীবনের সঞ্চয় এক রাতে হারিয়ে শামসুদ্দিনের স্ত্রীর কান্না যেনো আর থামছেই না। লন্ডভন্ড হওয়া ঘরে মঙ্গলবার দুপুরেও খুঁজছিলেন শেষ কিছু সম্বল।
তাদের অভিযোগ সরকারি সহয়তা বা খাবারের জন্য যোগাযোগ করা হলেও স্থানীয় পর্যায় থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এক সামসুদ্দিনের মতো আরও অনেক গল্প এখন হাতিয়াতে।
দুর্যোগ যেনো প্রত্যন্ত হাতিয়ার নিত্যসঙ্গী। এবারের দুর্যোগে এ জনপদে কতো বসত, দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে তার সঠিক কোনো হিসেব নেই।
সিত্রাংয়ের প্রভাবে হাতিয়ার ১১ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৩০ হাজার হেক্টর আমন ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং হুমকির মুখে আছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
তমরুদ্দি ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকার চারটি পয়েন্ট ভেঙে পানি প্রবেশের আশঙ্কা আছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এক রাতে সব হারিয়ে দিশেহারা অনেকেই। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নোয়াখালী-হাতিয়া যোগাযোগের লঞ্চ ঘাটটিও। ঝড়ের তাণ্ডবে লঞ্চ ঘাটের পন্টুনটি নদী থেকে ডাঙ্গায় এসে উঠেছে।
আর বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের বাইরে জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে তিন হাজার একর আমন ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ৮১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্বীপের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাতিয়ার সঙ্গে রোববার থেকে সারা দেশের নৌযোগাযোগ বন্ধ আছে। ফলে হাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।
একাত্তর/এআর