চুয়াডাঙ্গায় ডায়রিয়ায় নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ৩০০ রোগী

চুয়াডাঙ্গায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সদর হাসপাতালে ৩০ জনসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৩০০ রোগী ভর্তি আছেন। প্রতিদিনই জেলার হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগী আসছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। 

ডায়রিয়ায় মারা যাওয়া ওই নারীর নাম রাবেয়া খাতুন (৪০)। তিনি সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের আকুন্দোবাড়িয়া গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ডায়াবেটিস ও হৃদ রোগে আক্রান্ত ছিলেন রাবেয়া।

শনিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লিওন বলেন, শনিবার দুপুরে রাবেয়া ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে তার হার্ট ও ডায়াবেটিক গুরুতর অবস্থা ধারণ করায় রাত ১০টা ৫৮ মিনিটের দিকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে রেফার্ড করা হয়। এরপরই তিনি মারা যান। 

এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, দুটি কক্ষ নিয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে কোনো শয্যা খালি নেই। ফলে মেঝেতে শিশুসহ রোগীদের থাকতে হচ্ছে। জায়গা না থাকায় বাইরের বারান্দার মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা চলছে।

রোগী ও স্বজনরা জানিয়েছেন, একটি কক্ষে ১০/১২ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে। এতেও অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তারা জানান, শিশুদের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি নিয়ে গেলে আবারও তারা আক্রান্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাতে মারধর করলো স্বামী, সকালে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসাল্টেন্ট ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, শীতের সময় শিশুরা রোটা ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। এসময় তাদের বিশেষ যত্নে রাখতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আতাউর রহমান জানান, শীতজনিত কারণে ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসায় সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। 


একাত্তর/এসি