প্রসব করেছেন, হয়েছে পিতার মৃত্যু তবুও অদম্য শিক্ষার্থী আয়েশা

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার অদম্য শিক্ষার্থী আয়শা খানম। তিনদিন আগে সন্তান প্রসব করেছেন, সন্তান জন্মের পরেরদিন হারিয়েছেন বাবাকে। তারপরেও পরীক্ষায় বসেছে শোকে কাতর, হার না মানা আয়শা। 

আয়শা উপজেলার পূর্ব পয়সা গ্রামের আনিচ বক্তিয়ারের মেয়ে এবং বাগধা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সকালে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে উপজেলার সরকারি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজে পরীক্ষার কেন্দ্রে ৪০১ নম্বর কক্ষে কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপজেলা মৎস্য অফিসার মোহম্মদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

এ সময় তিনি শোকে কাতর ওই পরীক্ষার্থীর বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সমাজে হার না মানা মনোবলের এমন মেয়ের নজির খুবই কম আছে। যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়েরা বিয়ের পরে লেখাপড়া ছেড়ে দেয় সেখানে এই শিক্ষার্থী বিয়ের পরেও লেখাপড়া চালিয়ে গিয়ে সন্তান জন্ম দেয়ার একদিন পরে তার বাবার মৃত্যুর পরেও পরীক্ষায় বসেছে। 

শিক্ষার্থী আয়শা খানমের স্বামী পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার চিত্রাপাড়া গ্রামের বীর বিক্রম ফায়েদুজ্জামান শেখের ছেলে রাকিবুল ইসলাম জানান, তিনি পেশায় কোটালীপাড়ায় ফল ব্যবসায়ী। তাদের বিয়ে হয়েছে এক বছর তিন মাস। 

বিয়ের পরে তার স্ত্রী আয়শা খানমের অদম্য ইচ্ছার কারণেই সংসারের কাজের পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে আসছিল। চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী অনাগত সন্তানের ভূমিষ্ঠ হবার তারিখের মধ্যে চলতি এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শারীরিক মানসিক দুঃসময়ের মধ্যে তার স্ত্রী আয়শা পরীক্ষা শুরুর আগের দিন গত (৫ নভেম্বর) শনিবার দুপুরে বাবার বাড়িতে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় এর একদিন পর (৬ নভেম্বর) রোববার সকালে তার বাবা আনিচ বক্তিয়ার বার্ধক্যজনিত কারণে ব্রেইন ষ্ট্রোক করে মারা যায়।

সন্তান জন্ম দেয়ার একদিন পরে পিতার মৃত্যুর পরে পরিবার থেকে আয়শাকে পরীক্ষা দেয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হলেও সব বাধা ও আশংকা উপেক্ষা করে আয়শা পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা জানায় এবং সেই অনুযায়ী (৮ নভেম্বর) মঙ্গলবার বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। 

পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থী আয়শা জানায়, তার পরীক্ষা মোটামুটি ভালই হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মধ্যেই তিনি নিজেকে শক্ত রেখে পরীক্ষায় অংশ নেন। সমস্যা যতই হোক তা এক সময় কাটবেই কিন্তু এবছর পরীক্ষা দেয়ার সময় আর থাকবে না বলেই তিনি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি সকলের কাছে তার সন্তানের জন্য দোয়া চেয়েছেন।


একাত্তর/এআর