রায়পুরায় পুলিশের হেফাজতে স্ত্রী হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

নরসিংদীর রায়পুরায় পুলিশের হেফাজতে স্ত্রী হত্যা মামলার এক আসামীর মৃত্যু হয়েছে। 

বুধবার (৯ নভেম্বর) সকালে রায়পুরা থানার হাজত খানায় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আসামী সুজন মিয়া (৩৫) গৃহবধূ লাভলী বেগম (৩০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে। 

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালত থেকে দুই দিনের রিমান্ডে আনেন রায়পুরা থানা পুলিশ। বুধবার সকালে হাজতখানার রডের সাথে গলায় জামা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশ জানায়। 

উল্লেখ্য, নরসিংদীর রায়পুরায় শনিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে স্ত্রী লাভলী আক্তারকে ছুরিকাঘাতে খুন করে পালিয়ে যান সুজন মিয়া। সোমবার (৭ নভেম্বর) ফরিদপুর জেলার আটরশি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আল আমিন নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আল আমিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত সুজন মিয়া দীর্ঘ ১৩ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে লাভলী আক্তারকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরে আসেন তিনি। প্রবাসে থাকা অবস্থায় ও দেশে ফিরে সুজন মিয়া ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এদিকে স্ত্রী লাভলী আক্তার মোবাইলে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলার কারণে তা নিয়ে সন্দেহ করতেন তিনি। এনিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত। গত শনিবার রাতে বাসায় ফিরে এলে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের এক পর্যায়ে আসামী সুজন তার স্ত্রী লাভলীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পরবর্তীতে আসামী সুজন মিয়াসহ তার পরিবারের লোকজন সবাই পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন: বান্দরবানে মাদ্রাসার দপ্তরিকে কুপিয়ে হত্যা

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গৃহবধূ লাভলী বেগমের মা মালেকা বেগম সোমবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে আসামী সুজন মিয়া ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ পরদিনই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সকালে কর্তব্যরত সেন্ট্রি নাস্তা দিতে গেলে তাকে হাজতখানার রডের সাথে গায়ের শার্ট পেঁচিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


একাত্তর/জো