রাত পোহালেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে স্থগিত হওয়া জেলা পরিষদের নির্বাচন। সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত পাঁচ উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রের ১০টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে রুহুল আমিন থাকায় ইতিমধ্যেই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছে জেলা নির্বাচন অফিস। শুধু সদস্য পদে পাঁচটি সাধারণ আসনে ২০ জন প্রার্থী এবং সংরক্ষিত দুটি আসনের জন্য পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে সংরক্ষিত এক নম্বর আসনে দুই জন ও দুই নম্বর আসনে তিন জন এবং সাধারণ আসনগুলোর মধ্যে এক নং সদর উপজেলায় সাত জন, দুই নং নাচোল উপজেলায় তিন জন, তিন নং গোমস্তাপুর ও চার নং ভোলাহাট উপজেলায় চার জন করে ও পাঁচ নং শিবগঞ্জ উপজেলায় দুই জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে এ নির্বাচনে ব্যাপক টাকার ছড়াছড়ি, গ্রুপিং-লবিং ও অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সংরক্ষিত-২ আসনের নারী সদস্য পদপ্রার্থী শাহিদা খাতুন রেখা।
এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত নির্বাচনে আমি অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু এ নির্বাচনে অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়ম হচ্ছে। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তাই নিজের ইচ্ছায় নির্বাচন বর্জন করলাম।
এদিকে সোমবারের নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা নির্বাচন অফিস। ইভিএম এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান বলেন, জেলার পাঁচটি কেন্দ্রে ৬৫৯ জন ভোটার ইভিএমএ ভোট দেবেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাকা লেনদেনের অভিযোগ এখনও পাইনি।
আরও পড়ুন: একাত্তরে সংবাদে জোড়া লাগা যমজ শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ করার কথা থাকলেও নারী প্রার্থী শামীমা জাহান সারা হাইকোর্টে রিট দাখিল করেন। পরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোট স্থগিত ঘোষণা করে উচ্চ আদালত। ১৫ অক্টোবর আদালতের বিচারিক কাজ শেষে জেলা পরিষদের নির্বাচনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে নির্বাচন ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়া হয়। জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও দাখিলকারী একমাত্র হওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
একাত্তর/এসি