স্কুলছাত্রী ধর্ষণের দায়ে প্রধান শিক্ষকের যাবজ্জীবন

রাঙামাটিতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে রাঙ্গামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। 

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এইচ এম ইসমাইল হোসেন এ রায় প্রদান করেন। 

জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত মো. আব্দুর রহিম জেলার লংগদু উপজেলার করল্যাছড়ি আর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট রাজীব চাকমা আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলেন, আশা করছি এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধী কার্যক্রম কমে আসবে এবং এই রায় কার্যকর হবে। 

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মোক্তার আহমেদ জানান, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর করল্যাছড়ি আর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম। এ ঘটনা কাউকে না জানাতে হুমকি দিলে ভুক্তভোগী প্রথমে ভয়ে কাউকে জানায়নি। 

দুই দিন পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে সে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে তার মা বিষয়টি স্থানীয় কারবারি বীর মোহন চাকমা, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মঙ্গল কান্তি চাকমাকে অবহিত করেন। বিষয়টি তারা দেখবেন বলার পর ৯ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে ৫ অক্টোবর লংগদু থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা।

পরে লংগদু থানার পরিদর্শক সুজন হালদার ও মো. জাকির হোসেন তদন্ত শেষে গত ২৮ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা থাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (১) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

আরও পড়ুন: আয়াত হত্যা: আসামি আবীরের বাবা-মা তিন দিনের রিমান্ডে

পরে রাষ্ট্রপক্ষ ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্নকারী দুইজন চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাক্ষী বীর মোহন কারবারি ও ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমাসহ মোট ১৩ জনের সাক্ষী উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ আসামী সহ মোট ছয়জনের সাক্ষী উপস্থাপন করেন। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সাইফুল ইসলাম অভি জানান, আসামি দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। 


একাত্তর/এসজে