স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় বান্ধবী গ্রেপ্তার, বন্ধু পলাতক

মুন্সীগঞ্জে দশম শ্রেণির ছাত্রী জেসি হত্যায় অভিযুক্ত বান্ধবী আদিবা আক্তারকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কের দ্বন্দ্বের জেরে জেসিকে খুন করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জানিয়েছে তারা। 

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন গ্রেপ্তার আদিবা। তবে এখনও পলাতক রয়েছেন মামলার আরেক আসামি বিজয় (২২)। 

পুলিশ বলছে, জেসি ও আদিবা দুই বান্ধবীর সাথে বিজয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। জেসি এ ব্যাপারে জেনে যাওয়ার পর বিজয় ও আদিবা দুজনে মিলে জেসিকাকে হত্যা করেন বলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আদিবা। 

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুজ্জামান জানান, হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনা বের হয়ে আসে। সেই সূত্র ধরে আদিবাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

জবানবন্দিতে আদিবা জানান, জেসিকে বিজয় ও তিনি মিলে বিজয়দের বাড়ির ছাদের চিলেকোঠায় নির্মম নির্যাতন করেন। পরে বিজয় স্থানীয় আরও কয়েকজনের সহায়তায় জেসিকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসককে জানান সে ছাদ থেকে পড়ে গেছে। এরমধ্যেই জেসি মারা যায়।

এদিকে, জেসি হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেসির স্কুলের সহপাঠী ও স্বজনরা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করে প্রেসক্লাব সম্মুখে এসে আধা ঘণ্টা অবস্থান গ্রহণ করেন। এরপর মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। 

আরও পড়ুন: দুই বিচারক ও নাজিরের অপসারণ চেয়ে আইনজীবীদের আদালত বর্জন

নিহত জেসিকা মাহমুদ সদর উপজেলার প্রবাসী সেলিম দেওয়ানের মেয়ে। সে মুন্সীগঞ্জ শহরের কোটগাঁও এলাকায় তার পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকত এবং এভিজেএম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) রাতে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিহত জেসিকার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন জেসিকার ভাই মো. শাহরিয়ার জিদান।


একাত্তর/এসজে