কুমিল্লার চান্দিনায় চুরির অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন সুমন (২৩) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি চুরির ঘটনা। যদিও নিহতের পরিবারের দাবি, ওই যুবককে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (৮ জানুয়ারী) ভোরে চান্দিনা উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোজাম্মেল হোসেন সুমন পাশ্ববর্তী এলাকার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।
স্থানীয় রনবীর জানা যায়, শনিবার (৭ জানুয়ারী) দিবাগত রাত পৌঁনে ৩টায় সাতবাড়িয়া গ্রামের দোতলা মসজিদ সংলগ্ন আবু সাঈদের মুদি দোকানে টিনের চালা খুলে চোর ঢুকে। এসময় পার্শ্ববর্তী বাড়ির রফিক নামের একজন টের পেয়ে দোকানি সাঈদকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এসময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক এসে ধাওয়া করে দোকানের ভেতর থেকে মোজাম্মেল হোসেন সুমনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। মারাত্মক আহতাবস্থায় সুমনকে সকালে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা গার্মেন্টস কর্মী মিলি বেগম জানান, আমার ছেলে স্ত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে থাকে। শনিবার চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসার কথা ছিল। রোববার সকালে জানতে পারি সাতবাড়িয়া গ্রামে আমার ছেলেকে মেরে ফেলে রেখেছে। তিনি দাবি করেন, আমার ছেলে কখনও চুরি, ডাকাতি করেনি। তার ব্যাপারে কেউ কোনোদিন অভিযোগও দেয়নি। তারা কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
কেরণখাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুমন ভূইয়া জানান, মূলত চুরির ঘটনার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে অপর এক চোর পালিয়েও যায়।
এদিকে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. সাহাবুদ্দীন খাঁন জানান, আমাদের প্রাথমিক তদন্তে চুরির ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। গণপিটুনিতে চোর সন্দেহে সুমন নামের ওই ছেলেটিকে হত্যা করার তথ্যও সঠিক। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করছেন।
একাত্তর/আরবিএস