পটুয়াখালীতে শহর রক্ষা বাঁধ থাকলেও এর সুফল পাচ্ছেন না পৌরবাসী। বর্ষা মৌসুমে পূর্ণিমা ও অমাবস্যার প্রভাবে শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে লাউকাঠী ও লোহালিয়া নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে দুর্ভোগে ফেলছে শহরবাসীকে। সবশেষে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবেও নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে শহরের এক তৃতীয়াংশ এলাকা প্লাবিত হয়।
শহরবাসীর অভিযোগ, শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টের স্লুইস গেট ও ইনলেটের রেগুলেটর গুলো কাজ না করা ও কিছু এলাকায় বাঁধ না থাকায় জলাবদ্ধতার এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অপরদিকে বাঁধের ২৯টি পয়েন্টের স্লুইস গেট ও রেগুলেটরের রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্ব নিয়েও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভার মধ্যে রয়েছে সমন্বয়হীনতার অভাব।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, তারা জনবলের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বাঁধ নির্মাণের পরেই পৌর কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করতে চেয়েছিলো।
অপরদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্মাণের সময় বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে কারিগরি ত্রুটি থাকায় তারা এর দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পৌরসভা সূত্র জানায়, দেড় লাখেরও বেশি জনসংখ্যার এ পৌরসভায় পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেব মতে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হয় ২০১১-১২ অর্থ বছরে। সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ শহরের তিন পাশে লোহালিয়া ও লাউকাঠী নদীর পাড়ে এ বাঁধ নির্মাণের মধ্যে ব্লক ফেলে প্রাচীর তৈরি করা, ছয়টি রেগুলেটর, ১৭টি আউট লেটসহ ২৯টি স্লুইস গেট রয়েছে গোটা বাঁধ জুড়ে। দেখভাল করার লোক না থাকায় এবং বেশ কিছু পয়েন্টে অকেজো হয়ে যাওয়ায় কপাট ভেদ করে জোয়ারের পানি ঢুকছে শহরে। এ ছাড়া শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জমি সংক্রান্ত জটিলতায় তিনশ মিটার বাঁধ না হওয়ায় অরক্ষিত থাকায় এবং কালিকপুর বিসিক এলাকা বাঁধের আওতায় না আসার ফলে কয়েক বছর বছর ধরেই জোয়ারের পানি উপচে শহরে প্রবেশ করছে।
প্রতি পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় নদীর পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে শহরের কাঠপট্টি, কালিকাপুরের বিসিক শিল্প নগরী, নিউ মার্কেট, লঞ্চঘাট, পুরাণ বাজার, চক বাজার, সেন্টার পাড়া, নবাব পাড়া, মহিলা কলেজ রোডসহ শহরের এক তৃতীয়াশ এলাকা। নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় এলে জলোচ্ছ্বাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়।
সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে শহরের ২নং ওয়ার্ডের কাঠপট্টি এলাকায় তিনশ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্তের কথা উল্লেখ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরের তিন পাশে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন আরজু।
আরও পড়ুন: করোনায় বেড়েছে ভারত থেকে অনুপ্রবেশ, পাঁচ মাসে আটক ৯ শতাধিক
পৌর মেয়র মো. মহিউদ্দন জানান, শহর রক্ষা বাঁধের হাইট লেভেল এখন পানি প্রবাহের চেয়ে এক দেড় ফুট ওপরে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এবং স্লুইস গেটের কপাটগুলো কাজ না করায় ওভার ফ্লো ও কপাট দিয়ে পানি ঢুকছে।
মেয়র আরও বলেন, অকার্যকর এসব কারিগরি ত্রুটিযুক্ত যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা সংস্কারের সক্ষমতা পৌরসভার নেই। তারা সবকিছু ঠিক করে দিক, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌরসভা নেবে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হালিম সালেহী বলেন, ১০ বছর আগে পটুয়াখালী শহর রক্ষা বাঁধ যখন নির্মাণ হয়েছিলো তখন স্ট্রাকচারগুলো সব ঠিক ছিল। বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় শহরে পানি প্রবেশ করছে। এগুলো ঠিক করে পৌরসভার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে আসা যাবে।
ভুক্তভোগী শহরবাসীর আশা, দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভা একযোগে কাজ করবেন।