টঙ্গীর পথে মুসল্লিদের ঢল, দুপুরে আখেরি মোনাজাত

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে তাবলীগ জামাতের তিনদিনের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। হেদায়তি বয়ানের পর জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাত। তাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই টঙ্গীর পথ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে।

রোববার (২২ জানুয়ারি) ফজরের পর ভারতের মাওলানা মুরসালিনের বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার শেষ দিনের কার্যক্রম। তার বয়ান তর্জমা করে শোনান বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফুল।

বয়ানের পর নাস্তার বিরতি দিয়ে নয়টা থেকে মাওলানা মোশাররফ তালিমের বয়ান। সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হবে হেদায়েতি বয়ান। হেদায়তি বয়ানের পর হবে আখেরি মোনাজাত।

তাবলীগ জামাতের কাকরাইলের শুরা সদস্য এবং বাংলাদেশের মাওলানা সাদপন্থিদের মূল সমন্বয়ক সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম জানান, হেদায়েতি বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা ইউসুফ বিন সা’দ কান্ধলভী। বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম। আখেরি মোনাজাতও পরিচালনা করবেন মাওলানা সা’দের বড় ছেলে ইউসুফ বিন সা’দ কান্ধলভী। 

আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মার কল্যাণ, সুদৃঢ় ঐক্য, আখেরাত ও দুনিয়ার শান্তি কামনা করা হয়। তাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মানুষের ঢল নেমেছে।

এর বাইরে শুধু আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসতে থাকে শনিবার থেকেই। বাস, ট্রাক, কার, মাইক্রোবাস, ট্রেন, লঞ্চে করে এসে টঙ্গীতে পৌঁছে অবস্থান নিতে শুরু করেন। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার লোকজন শীত আর কুয়াশা উপেক্ষা করে রাতেই টঙ্গীমুখো হন।

ইজতেমার মাঠে যাদের জায়গা হয়নি, আশপাশের বাসাবাড়ি, ভবন, ভবনের ছাদ কিংবা করিডোর, সড়কের পাশে ফুটপাতে এমনকি গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা। পত্রিকা, পাটি, চট, জায়নামাজ, পলিথিন বিছিয়ে অনেকে বসে পড়েছেন রাস্তায়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার আম বয়ানের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এই পর্বে অংশ নিচ্ছেন দিল্লির মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর অনুসারীরা।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সায়েম জানান, রোববার সকাল পর্যন্ত আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনসহ ৬২টি দেশ থেকে সাত হাজার ৯২১ জন বিদেশি মেহমান বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত এই আগমন অব্যাহত থাকবে।

মূল ইজতেমার ময়দানে নারীদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। সে কারণে ময়দানের বাইরে খালি জায়গায়, কলকারখানা ও বসত বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতের অপেক্ষায় আছেন বহু নারী।

এদিকে, মধ্যরাত থেকে টঙ্গীমুখী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় দীর্ঘপথ হেঁটে ইজতেমা মাঠে পৌঁছতে হচ্ছে লাখ লাখ মানুষকে।

আরও পড়ুন: আগামী ডিসেম্বরে মাতারবাড়ি থেকে মিলবে বিদ্যুৎ

গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, আখেরি মোনাজাতের প্রথম পর্বে যানবাহন চলাচলে আমরা যা করেছি দ্বিতীয় পর্বেও সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। টঙ্গী থেকে ভোগড়া পর্যন্ত এবং কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মুন্নু গেইট পর্যন্ত সড়কগুলো বন্ধ রয়েছে। ভোগড়া থেকে তিনশ ফুট পর্যন্ত সড়কে ঢাকাগামী ও ময়মনসিংহগামী গাড়িগুলো চলাচল করতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রেল মন্ত্রণালয় টঙ্গী থেকে ইজতেমা উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনের সুযোগ রেখেছে।


একাত্তর/জো