টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে বাড়ছে পাহাড় ধসের শঙ্কা

টানা বর্ষণ হলেই চট্টগ্রামে বাড়ে পাহাড় ধসের শঙ্কা। পাহাড়ে থাকা মানুষকে সরাতে তোড়জোড় শুরু হয় প্রশাসনের। গুটিকয়েক পরিবারকে সরানো সম্ভব হলেও থেকে যায় বেশিরভাগই। কর্তাব্যক্তিরা চলে যাবার পরপরই আবার পাহাড়ের ফিরে যান তারা। 

কক্সবাজারে এই বর্ষাতেও ঝুঁকির মুখে আছে রোহিঙ্গাসহ পাহাড়ের লাখো বাসিন্দা। তারা বলছেন, পাহাড় থেকে লোকজন সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ থাকলেও তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। শনিবার (৫ জুন) কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ও টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড় ধসে দুইজন নিহত হয়েছে।

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে গত ১৪ বছরে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না। দূর্ঘটনা ঠেকাতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি ৩৬টি সুপারিশ করলেও এর কোনোটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল আহসান জানান, পাহাড় ধসে আর যেন মৃত্যুর ঘটনা না ঘটে তার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হবে। 

চট্টগ্রামে গত ১৪ বছরে পাহাড় ধসে মারা যায় ২৩৫ জন মানুষ। সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালের ১১ জুন। ঐদিন মারা যায় ১২৭ জন। এ ঘটনার পর গঠিত হয় ১৮ সদস্যের পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। কিন্তু গেল এক দশকে কেবল বর্ষা মৌসুমে উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে কমিটির কার্যক্রম। 

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করছে ৮৩৫টি পরিবার। বাস্তবে পাহাড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে এর চেয়েও অনেক বেশি মানুষ। 

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারী লোকজন বলছেন তারা উপায়হীন বলে ঝুঁকি জেনেও এখানে থাকছেন। পূনর্বাসিত হলে তারা এখানে থাকবেন না।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে পাহাড়ের লাখো বাসিন্দা

আর বিভাগীয় কমিশনার বলছেন,পাহাড় ধসে মৃত্যু ও সেখানে বাসবাসকারীদের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে। পাশাপাশি পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে একটি প্রস্তাবণা দেওয়া হবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন চট্টগ্রামে পাহাড়গুলো নিয়ন্ত্রণ করছে প্রভাবশালী একটি মহল। ফলে স্থানীয় প্রশাসন চাইলেও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করতে পারছে না। প্রভাবশালীদের সহায়তায় প্রতিবছরই পাহাড়ে অবৈধ বসতি গড়ে তোলে নিম্ন আয়ের মানুষ।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পাহাড় ধসে দুই রোহিঙ্গা নিহত

১৭ টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের মধ্যে ৭টি পাহাড়ের মালিকানা সরকারী বিভিন্ন সেবা সংস্থার। ইতিমধ্যে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পাহাড়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির অবৈধ সংযোগের তালিকা তৈরী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেসব সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা আছে, তারা এখনো তালিকা দেয়নি।


একাত্তর/আরবিএস