রোহিঙ্গাদের গল্প শুনলেন বেলজিয়ামের রানি মাথিল্ডে

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)–বিষয়ক দূত ও বেলজিয়ামের রানি মাথিল্ডে ম্যারি ক্রিষ্টিন। 

সেখানে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশনের লার্নিং সেন্টারটি ঘুরে দেখেন। সেই সঙ্গে আরও পাঁচটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে কথা বলেন রোহিঙ্গাদের সাথে। 

বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার পৌঁছান বেলজিয়ামের রানি মাথিল্ডে। এরপর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি যান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শনে। 

প্রথমে তিন নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশন পরিচালিত শিশুদের একটি লার্নিং সেন্টারে যান রানি। এ সময় শিশুদের পড়ালেখার পরিবেশ দেখেন এবং তাদের কণ্ঠে বার্মা ভাষায় গান শোনেন। 

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুরে লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরে গিয়ে তিনি গাছের চারা রোপণ করেন।

এরপর রোহিঙ্গা নারীদের পরিচালনায় ওমেন্স মার্কেট, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, ইকোশেড, ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ কয়েকটি সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। 

ক্যাম্প পরিদর্শনে রানির সঙ্গী ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। রানি সাংবাদিকদের কোন কথা না বললেও মন্ত্রী জানান, এ সফর রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে ভূমিকা রাখবে। 

আর রোহিঙ্গারা বলছেন, কোন বিদেশি ক্যাম্পে এলে তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখেন। নিজেদের দেশে ফেরার আশা জেগে ওঠে। 

তারা বলেন, রানি তাঁদের কথা শুনেছেন। পাশাপাশি মানবসেবায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আশ্রয়শিবিরের স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও ক্যাম্পের শান্তিশৃঙ্খলা নিয়েও কথা বলেন রানি।

ক্যাম্পে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখার পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সাথেও কথা বলেন বেলজিয়ামের রানি। 

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

এর আগে কয়েক দফায় আসে আরও কয়েক লাখ। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয় শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। বাংলাদেশ সরকার থেকে বারবার তাগাদা দেয়ার পরও দীর্ঘ পাঁচ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার সরকার।