শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে পা দিয়ে লিখে এবার আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫৭ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব।
হাবিব রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার হিমাতখালি গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদের ছেলে। এবং তিনি পাংশার পুঁইজোর সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা থেকে পা দিয়েই লিখে এবার আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তির্ন হয়। জন্মলগ্ন থেকেই হাবিবের দুটি হাত নেই।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাঈদ আহম্মেদ।
হাবিবুর রহমান বলেন, ছোট বেলা থেকে পা দিয়ে লিখে খুব কষ্ট করে পড়াশুনা করেছেন তিনি। দাখিল পরীক্ষার পর মাদ্রাসার শিক্ষক এবং কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী হকের সহযোগিতায় পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আলিম পরীক্ষায় আশা ছিলো জিপিএ ৫ পাবেন। কিন্তু পেয়েছেন ৪.৫৭। তারপরও তিনি খুশি। এখন তার লক্ষ্য ইসলামী ইউনির্ভাসিটিতে ভর্তি হওয়ার। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পড়াশুনা করে প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চান হাবিব।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয়তা কমছে বাইডেনের, অনিশ্চিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
পুঁইজোর সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাঈদ আহম্মেদ বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হাবিব। তবে সে অতত্যন্ত মেধাবী। ফলে প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে এবারের আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্ত দেখিয়েছেন। সে পেয়েছে ৪.৫৭। পা দিয়ে লিখে এইরকম রেজাল্ট করা সত্যি কষ্টকর। আসলে তার চেষ্টায় সে এগিয়ে যাচ্ছে। হাবিবের পড়াশুনা চালিয়ে যেতে মাদ্রাসা ও তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছেন। আগামীতে উচ্চ শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও বলেন, তার মাদ্রাসা থেকে এ বছর ২২ জন শিক্ষার্থী আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অর্থাৎ শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এরমধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ জন। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা ও শিক্ষকদের পরিশ্রমে তার মাদ্রাসা থেকে শতভাগ পাশ করেছে। এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন তিনি।
একাত্তর/আরবিএস