দীর্ঘদিন বন্ধ জামালপুর লাইব্রেরি, নষ্ট হচ্ছে ৩৪ হাজার বই

এক সময় জামালপুরের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বাতিঘর ছিলো জামালপুর পাবলিক লাইব্রেরি। কমিটির নিস্ক্রিয়তায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সাত মাস ধরে বন্ধ রয়েছে, তালা ঝুলছে প্রধান ফটকে। এতে নষ্ট হতে বসেছে ৩৪ হাজার দেশি-বিদেশি মূল্যবান বই।

বন্ধ লাইব্রেরি চালুর দাবিতে আন্দোলন করছে বিভিন্ন সংগঠন। তারা বলছেন, পাঠাগারটি চালু না হলে তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে, জেলা প্রশাসন আশ্বস্ত করেছেন, লাইব্রেরি সচল করতে কাজ চলমান রয়েছে। শেষ হলেই সেটি খুলে দেয়া হবে। 

ব্রিটিশ আমলে এই বাতিঘরের যাত্রা শুরু হলেও ১৯৫৯ সালে পৌরসভার দোতলা ভবনের একটি কক্ষে পাবলিক লাইব্রেরির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে শহরের বকুলতলা মোড়ে ২৯ শতাংশ ভূমিতে নিজস্ব একতলা ভবন গড়ে উঠে। তখন থেকেই পাবলিক লাইব্রেরিটি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠে।

এক সময় এ লাইব্রেরি পাঠকের আনাগোনায় মুখরিত ছিল। প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পাঠক বই লেনদেন ও সংবাদপত্র পড়তে ভিড় জমাতেন। এ লাইব্রেরি দেশি-বিদেশি মূল্যবান বই ও চাকরির বিজ্ঞাপন সংগ্রহের একমাত্র ভরসাস্থল ছিলো।

সেই লাইব্রেরি এখন জরাজীর্ণ, ভেতরে প্রবেশের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। ভেতরে অন্ধকার। এটিই জামালপুর পাবলিক লাইব্রেরি। এলাকাবাসী জানান, প্রায় সাত মাস ধরে বন্ধ লাইব্রেরি। পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি থাকলেও তাদের কোন কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

ধুলোবালি, পোকা-মাকর, মাকরসাঁ ছেয়ে গেছে বইগুলো। এতে নষ্ট হতে বসেছে লাইব্রেরির প্রায় ৩৪ হাজার মূল্যবান বই। একজন লাইব্রেরিয়ান ও একজন পিয়ন লাইব্রেরির দায়িত্ব পালন করেছেন। তারাও ঠিক মতো বেতন পাচ্ছেন না।

জামালপুর পাবলিক লাইব্রেরির পিয়ন দুদু মিয়া বলেন, প্রায় আট বছরের বেতন বাকি। আমি আর লাইব্রেরিতে যাই না। সাবেক মেয়র মামুন সাহেব বেশ কিছুদিনের বেতন দিয়েছিলেন। তারপর আর বেতনের ব্যবস্থা হয়নি। আমি লাইব্রেরির দায়িত্ব থেকে সরে এসেছি।

পাবলিক লাইব্রেরি পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও জেলা প্রশাসক শ্রাবস্তী রায় বলেন, বিগত জেলা প্রশাসক পাবলিক লাইব্রেরি নিয়ে কাজ করেছিলেন। করোনা আসার পরে তা সঠিকভাবে সচল করতে পারেননি। পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করে সচল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


একাত্তর/এসি