১৬ নদ-নদী নিয়েও পানি সঙ্কটে ধুকছে কুড়িগ্রাম

১৬টি নদ-নদী নিয়ে পানি সঙ্কটে ধুকছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম। এতে বিপাকে পড়েছেন নদী কেন্দ্রিক পেশাজীবীসহ চরাঞ্চলের বহু কৃষক। স্থানীয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, জলবায়ুর পরিবর্তনে এমন বিরূপ প্রভাব পড়েছে। 

প্রায় ৩১৬ কিলোমিটার নদী পথের এ জেলায় পাঁচটি প্রধান নদী হলো- তিস্তা, ধরলা, গঙ্গাধর, দুধকুমার এবং একটি নদ ব্রহ্মপুত্র। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের দৈর্ঘ্য ১৯২ কিলোমিটার।

জেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক চর রয়েছে। এগুলোতে বাস করেন প্রায় সাত থেকে আট লাখ মানুষ। চরে কৃষিজমি রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর।


শুষ্ক মৌসুমে ওই জমিগুলোতে ধান, ভুট্টা, আলু, তিল, বাদাম, গমসহ প্রায় সব ধরনের ফসল ফলে। এদিকে নাব্য সঙ্কটে নদীগুলোতে এখন ধু ধু বালুচর। এতে নদী কেন্দ্রিক পেশাজীবীরা পড়েছে বিপাকে। ফলে নদী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মানুষগুলো এখন পেশা বদলে কেউ হয়েছেন রিকশাচালক, আবার কেউ দিনমজুর।

স্থানীয়রা জানান, নদীতে পানি কমে যাওয়ায় শুধু মানুষের ওপর নয়,  প্রভাব পড়েছে জীব বৈচিত্র্যের ওপরও। কৃষি আবাদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গৃহপালিত প্রাণিদের খাদ্যও কমে গেছে। এতে করে কমেছে দারিদ্র পীড়িত এসব অঞ্চলের মানুষের বাড়তি আয়। নদ-নদীর তীরের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে বাড়ছে চর্ম, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের রোগ। 

তারা জানান, প্রতি বন্যায় পাহাড়ি ঢলে পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে শুষ্ক মৌসুমে নদ নদী গুলো পানি শূন্যতা বেড়ে যাচ্ছে। নদী শাসন কিংবা নদীর গভীরতা না থাকায় নদী তার গতি পথ হারাচ্ছে। ফলে প্রতি বছরের বন্যায় বাড়ছে জেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। 


পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জলবায়ুর প্রভাবে জেলার নদ নদীতে প্রতি বছর পানি  হ্রাস পাওয়া বিরূপ প্রভাব পড়ছে। 

আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে দিনেদুপুরে ব্রিজ ও কালভার্টের রড চুরি

তিনি জানান, ধরলা ও দুধকুমার নদীতে পানি ধরে রাখতে গভীরতা বৃদ্ধির সমীক্ষা শেষ হয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রে সমীক্ষার কাজ  চলছে।


একাত্তর/এসি