শিবগঞ্জে পরকীয়ার জেরে যুবকের কব্জি কর্তন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আপন মামীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে রুবেল আলী (২৮) নামে এক যুবকের হাত থেকে কব্জি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। 

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের সোনামসজিদ ডিগ্রি কলেজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় রুবেল হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত যুবক উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের নামোচাকপাড়া গ্রামের মৃত মতিউর রহমান মতিনের ছেলে।

ধোবড়া এলাকার স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আ: রশিদ জানান, প্রায় ৮ বছর আগে বিয়ে হয় চাকপাড়া গ্রামের রুবেলের মামা রশিদের সাথে একই ইউনিয়নের ধোবড়া গ্রামের একরামুলের মেয়ে ইমিয়ারা খাতুনের। তাদের সংসারে ২ টি সন্তান আছে। ২ সন্তানকে রেখে একই এলাকার ট্রলি চালক রুবেলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় ইমিয়ারা। একপর্যায়ে তারা পালিয়ে বিয়ে করার পর রুবেল হামলার স্বীকার হয়। আহত রুবেলকে প্রথমে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুত্বর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শাহাবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য রুমালী বেগম জানান, একই ইউনিয়নের ধোবড়া এলাকার এমেলি খাতুন নামে এক গৃহবধূর সাথে রুবেলের পরকীয় সম্পর্ক ছিল। এটি মেনে নিতে পারেনি এমেলির পরিবার। এরই জেরে ১১টার দিকে রুবেল ভর্তি গম ট্রলি নিয়ে ধোবড়া যাচ্ছিল। এ সময় কলেজ পাড়া এলাকায় পৌঁছালে এমেলির পরিবারের লোকজন গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গোড়াদহ বিলে শরীরের বিভিস্থানে আঘাত করে ডান হাতের কব্জি কেটে ফেলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক এইচ এম মাসুম শিমুল জানান, ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় রুবেলকে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জরুরীভাবে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আহত রুবেলের মা মুক্তারা খাতুন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তার ছেলে রুবেল তার ছোট ভাই এর স্ত্রী ভাবী ইমিয়ারা খাতুনকে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে নিয়ে পালিয়ে যায়। এর পর তারা বিয়ে করে এবং তার ভাইকে তালাক দিয়ে চলতি সপ্তাহে বাড়ি ফিরে আসে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রুবেল ট্রলিভর্তি গম নিয়ে সোনামসজিদ থেকে নিজ বাড়ীর দিকে আসার সময় ইমিয়ারা খাতুনের পরিবারের লোকজন গাড়ী থেকে তুলে নিয়ে গোড়াদহ বিলে নিয়ে গিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে শরীরের বিভিস্থানে আঘাত করে এবং এক পর্যায়ে ডান হাতের কব্জি হাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

অন্যদিকে রুবেলের ছোট ভাই লিটন জানান, তার ভাইয়ের সাথে তার মামীর সর্ম্পকটি মেনে নিতে পারেনি মামীর পিতা একরামুল ও তার স্বজনরা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। তার দাবী রুবেলের সাথে বিয়ের অন্তত ১৫ দিন আগে আগের সংসার ছেড়ে এসে তার ভাইকে বিয়ে করার অপরাধে এভাবে কেন তার ভাইকে মূল্য দিতে হলো। 

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরি জোবায়ের হোসেন জানান, পরকীয়ার কারনেই ইমিয়ারার পরিবারের লোকজন রুবেলের হাত কেটে নিয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এর আগে আদালতের নির্দেশে শিবগঞ্জ থানায় গত ২৭ মার্চ একটি অপহরন মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মেয়ে অপহরণের অভিযোগ এনে ইমিয়ারার পিতা একরামুল বাদী হয়ে রুবেলকে প্রধান আসামী কওে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের একদিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পুলিশ অপরাধীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকেই ইমিয়ারার পরিবারের সদস্যরা এবং তার প্রথম স্বামী পলাতক ছিলো।


একাত্তর/এআর