পটুয়াখালীতে বরফ কলে বিস্ফোরণ, নিহত এক

পটুয়াখালীতে এক বরফ কলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন চার জন। তাদের মধ্যে দুই জনকে বরিশাল শেরেই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি এবং অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে জেলা বাউফল উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাট এলাকায় মেসার্স খান আইস ফ্যাক্টরিতে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. রাসেল খান (৩৫)। তিনি ওই ফ্যাক্টরি মালিকের শ্যালক। রাসেল ওই বরফ কল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। 

গুরুতর আহতরা হলেন- মো. ইব্রাহিম (২৯) ও আফজাল (৫০)। তাদের বরিশালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আরও দুই জন হলেন- প্রেমানন্দ (৭০) ও তার স্ত্রী কৃষ্ণা রাণী (৬০)। তাদের বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, রাত ১১টার দিকে বিকট শব্দে ফ্যাক্টরির বিস্ফোরণ হয়। এসময় মো. রাসেল খান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ফ্যাক্টরি থেকে নির্গত বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস মুহূর্তেই ফ্যাক্টরি এলাকার ৭০০ মিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।  ওই বিষাক্ত গ্যাসে ফ্যাক্টরির পাশে থাকা চায়ের দোকানদার প্রেমানন্দ মণ্ডল ও তার স্ত্রী কৃষ্ণা রানী, পাশের ড্রেজারের শ্রমিক মো. ইব্রাহিম ও আফজাল আহত হয়। এতে তাদের তীব্র শ্বাস কষ্ট ও চোখে- মুখে জ্বালা শুরু হয়।

আহত শ্রমিকরা জানান, ঘটনার কিছু সময় আগে মেশিনে ত্রুটি দেখা দেয়। কারিগরি ত্রুটির সমাধান শেষে আইস মেকিং মেশিন চালু করলেই বিকট শব্দ হয়। এরপরই গোটা রুমে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা দৌড়ে বাইরে চলে এলেও আটকা পড়েন রাসেল। 

এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু গ্যাসের তীব্রতার ফলে তাদের উদ্ধার কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দশমিনা ও বাউফল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যৌথভাবে সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। 

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুর সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

বাউফল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, এটা এমন এক ধরনের গ্যাস যা হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়লে খুব উত্তপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে একদম শীতল হয়ে যায় পুরো স্থান। বরফ উৎপাদনের যন্ত্রে এই গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়নি। সিলিন্ডারের সাপ্লাই স্থানে লিকেজ হয়ে ফেটে গেছে, ফেটে যাওয়ার ফলে বিকট শব্দ হয়। নিহত ব্যক্তি হয়তো সিলিন্ডারের বেশি কাছে ছিল তাই গ্যাসের তীব্র তাপে তিনি দগ্ধ হন। 


একাত্তর/এসি