হলুদের রাতে ফাঁস নিয়ে তরুণীর মৃত্যু, প্রাক্তনের হারপিক পান

কুমিল্লায় হলুদের রাতে গলায় ফাঁস নিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণীর। আর এ ঘটনার পর হারপিক পান করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তার প্রাক্তন প্রেমিক। 

শুক্রবার ভোর চারটার দিকে ওই তরুণী বাগিচাগাঁও এলাকায় নিজ বাসার শোবার ঘরে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নেন। এ খবর শুনে সকালে হারপিক পান করেন তার প্রাক্তন প্রেমিক। 

জানা গেছে, নিহত শারমিন আক্তারের (২৩) গ্রামের বাড়ি জেলার সদর উপজেলার কাকিয়ারচর এলাকায়। তার প্রাক্তন প্রেমিক মো. রনি আদর্শ সদর উপজেলার পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। 

পুলিশ জানায়, ভোররাতের দিকে বাগিচাগাঁও এলাকায় এক তরুণীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা মরদেহ নামিয়ে পাশের ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করলে স্বজনরা এ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ বাসায় নিয়ে যান। 

নিহতের পরিবারের সদস‌্য ও স্থানীয়রা জানান, হলুদ অনুষ্ঠানে শারমিন আক্তারের সাথে দেখা করেন তার প্রাক্তন প্রেমিক রনি। দলবল নিয়ে এসে তিনি বিয়ে না করার জন্য শারমিনকে অনুনয়-বিনয় করেন। 

পরে সবার মধ্যস্থতায় রনি অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান। ভোররাতের দিকে অনুষ্ঠান শেষ হলে বাসায় ফিরে নিজের শয়নকক্ষে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন শারমিন।

এদিকে প্রাক্তন প্রেমিকার মৃত্যুর খবরে হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন রনি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। 

প্রাথমিক তদন্তে পু‌লিশ জানতে পা‌রে, ২০২০ সালের শেষের দিকে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০২৩ সালের ৫ মে।

তবে বিয়ের আগের রাতে হলুদ অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি নিজের কক্ষে দুটি ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

আরও পড়ুন: মিয়ানমারে সন্তুষ্ট, ফিরে এসে অসন্তোষ রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শেদ বলেন, ঠিক কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ অন্যান্য তদন্ত শেষ হওয়ার পর এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে। 

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।


একাত্তর/এসজে