দরিদ্র ঝালমুড়ি বিক্রেতা দীলিপ কুমার ও তার স্ত্রী রেখা রানী আহত এক কুকুর ছানাকে পথ থেকে কুড়িয়ে এনেছিলেন প্রায় দেড় বছর আগে।
সেই কুকুর ছানাকে পরম যত্নে লালন-পালন করেন তারা। নাম রাখেন রাজাবাবু। দেড় বছর বয়সী রাজাবাবু এখন মনিবের ব্যবসার মালামাল বহন করে নিয়ে যায় হাটে।
মানুষের সঙ্গে পশু প্রেমের গল্প আছে অনেক। তবে সেসবের মধ্যে এমন কিছু গল্প তৈরি হয়, যা তৈরি করে বিশেষ আবেদন, মন ছুঁয়ে যায় মানুষের।
তেমনই এক গল্প সৃষ্টি করেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ এলাকার দিলীপ বাবু ও তার স্ত্রী রেখা রানী। তাদের সঙ্গে এক কুকুরের ভালোবাসা সাড়া ফেলেছে চেনা গন্ডিতে।
ছোট্ট খাবারের দোকানদার দিলীপ রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এসে এক কুকুর ছানাকে লালনপালন করছেন নিজের সন্তানের মত। সেই কুকুর এখন তার ব্যবসার সহযোগী।
নিজের নাম অনুসারে কুকুরের নামও রেখেছেন রাজাবাবু। সে আফতাবগঞ্জ হাটে প্রতিদিনই দুই চাকার গাড়িতে টেনে নিয়ে যায় দরিদ্র ঝালমুড়ি বিক্রেতা দীলিপ কুমারের ব্যবসার জিনিসপত্র।
গত বছরের মার্চে বড় কুকুরের আঘাতে আহত বেওয়ারিশ এক কুকুর ছানাকে উদ্ধার করে পরম মমতায় সুস্থ করেন দীলিপ কুমার আর তার স্ত্রী রেখা রানী। কুকুর ছানার নাম রাখেন রাজাবাবু।
নিজেরা না খেলেও রাজা বাবুকে অভুক্ত রাখেন না দিলীপ ও তার স্ত্রী। নিয়মিত চিকিৎসা করান, সেবা যত্ন করেন সন্তানের মতোই। মনিবের এমন ভালবাসার প্রতিদান দিয়ে চলেছে রাজাবাবু।
বাড়ির পাশের হাটে সপ্তাহে দুদিন খাবারের দোকান দেয় কুকুরপ্রেমিক দিলীপ। সেই টাকা দিয়ে রাজাবাবুর জন্য মাছ-মাংস কিনে আনেন তিনি। ভালো খাবার ছাড়া খায় না রাজাবাবু।
নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের দীলিপ কুমার ও রেখা রানী দম্পতির তিন সন্তান, দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর একমাত্র ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করেন ঢাকায়।
সন্তানদের অনুপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর ছোট সংসারে আনন্দ ছড়াচ্ছে রাজাবাবু। প্রতিদিন নিজ হাতে গোসল করানো থেকে শুরু করে খাবার খাওয়ানো সবই করেন দিলীপের স্ত্রী।
অসুখ দেখা দিলেই ডাক্তার ডেকে এনে চিকিৎসা করানো হয় বাড়িতে। এমনকি রাতের ঘুমটিও একসঙ্গে ঘুমায় তারা। নিজের সন্তানের মতো পালন করছেন কুকুরটিকে।
দিলিপের স্ত্রী রেখা রানী বলেন, প্রায় ১৭ মাস আগে অসুস্থ একটা কুকুর ছানা তার স্বামী বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারপর থেকে সন্তানের মতোই বড় করে তুলেছেন।
দিলিপ চন্দ্র বলেন, রাজাবাবুকে দিনে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখি। রাতে ছেড়ে দিই। রাজাবাবু রাতে আমাদের মাথার কাছে ঘুমায়। আমি বাজারে মুড়ি মাখা ও সিংড়া বিক্রি করি।
তিনি আরও বলেন, রাজাবাবু আমার সঙ্গে বাজারে যেত। হঠাৎ মাথায় আসে সাইকেলের চাকা দিয়ে রাজাবাবুর জন্য একটা গাড়ি বানাব।
তারপর প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ করে একটা গাড়ি বানাই। রাজাবাবুকে সেই গাড়িতে করে পণ্য আনা-নেয়ার প্রশিক্ষণ দিই। সেই থেকে রাজাবাবু পণ্য আনা নেওয়া করে।
একাত্তর/আরবিএস