দিনাজপুরে কয়েকদিনের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছে।
এতে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। হাসপাতালেও বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। গরমে বেশি বেশি তরল খাবারের পাশাপাশি শিশু আর বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে বলছেন চিকিৎসকরা।
দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণগারের দেওয়া তথ্য মতে, জেলায় মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইভাবে বুধবার ছিলো ৩৯ দশমিক ৯,
বৃহস্পতিবার ৪১, শুক্রবার ৪০ দশমিক ১, শনিবার ৪০ দশমিক ৬, রোববার ৪১ দশমিক ১ এবং সোমবার সকাল ৯ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনাজপুরে এমন তাপমাত্রা গত ৬৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৫৮ সালের ৩ জুন দিনাজপুরে ৪১.১ ডিগ্রি তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিলো।
এমন কাঠফাঁটা রোদে ঘরের বাইরে একটু স্বস্তি নিতে লোকজন ছুটছেন গাছের ছায়ায়। বৃষ্টির আশায় দিন গুণছেন গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকা মানুষ।
দিনাজপুরবাসীরা বলছেন, এ বছরের মতো এতো গরম আগে অনুভব করেননি। গরমে কাজকর্ম ঠিক মতো করা যায় না। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অনেক সমস্য হচ্ছে।
সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। উপার্জনের জন্য বাড়ি থেকে বের হলেও ঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না তারা। অল্প একটুতেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন।
আবহাওয়ার এমন অবস্থায় নাজেহাল হয়ে পড়েছে এ জেলার জনজীবন। খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না কেউই।
এমন গরমে ডায়রিয়া, নিউমনিয়া, সর্দি, কাশিতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শংঙ্কাও। হাসপাতালগুলোতে বড়েছে রোগীর সংখ্যা।
চিকিৎসকরা বলছেন, তাপদাহে শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত রোগীদের পরিচর্যায় তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে, বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সাথে চিকিৎসকদের পরামর্শ, গরমে বেশি বেশি তরল খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশু আর বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
এদিকে, বৃষ্টি কামনা ও তাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে ইসতিসকার নামাজ আদায় করেছেন জেলার মুসল্লিরা। সোমবার সকালে সদর উপজেলার চেহেলগাজী ঈদগাহ মাঠে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
একাত্তর/আরবিএস