গরম সহ্য হয়না, মেন্যুতে আপেল-পেঁপে থাকে এই ষাঁড়ের

সাদা-কালোর মিশ্রণে যেমন সুঠাম দেহ, ঠিক তেমনই তার চলনে রয়েছে আভিজাত্য। গরম একেবারেই সহ্য করতে পারে না, তাই বৈদ্যুতিক পাখা সবসময় সচল রাখতে করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। খাবার মেন্যুতে থাকে আপেল, পেঁপেসহ দেশীয় সব খাবার। আর প্রতিদিন যার খরচ গুনতে হয় আটশ’ টাকা। এমনই গল্প রাজশাহীতে এবার কোরবানি ঈদের জন্য প্রস্তুত করা বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়ের।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার লুৎফর রহমান ও আশেদা বিবি দম্পতির সাড়ে তিন বছরের আদরে বেড়ে উঠছে এই ষাঁড়টি। তারা জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে বাড়িতেই চলে এর লালন-পালন। বিভিন্ন রকমের ফল, কাঁচা ঘাস ও খুদের ভাত খেতে পছন্দ এই ষাঁড়ের। দিনে খাবার লাগে ১৫ থেকে ২০ কেজি।

ষাঁড়টিকে পরিবারের সদস্যের মতই লালন-পালন করেন লুৎফর-আশেদা দম্পতি। তাইতো এর পরিচর্যাতেও নেই কোন কমতি। কখনও কখনও একে অন্যের মনের ভাষাও নাকি বুঝতে পারেন তারা।

ষাঁড়ের মালিক লুৎফর রহমান জানান, খেসারি, ওষুধসহ অন্যান্য জিনিস কিনে খাওয়াতে হয়। দিনে সাত-আটশ’ টাকার মতো খরচ পড়ে যায়।

ষাঁড়ের মালিক আশেদা বিবি বলেন, আমি ওকে বলি, ‘বাবা কেঁদো না। আমি আছি তোমার পেছনে, ও আমার কথা শোনে।’

লম্বায় ১০ ফুট, উচ্চতায় সাড়ে ৫ ফুট আর ৮ ফুট প্রস্থের অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১২শ’ কেজি। এর দাম হাঁকা হচ্ছে ২০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে কয়েকজন দরদামও করে গেছেন।

রাজশাহীর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলফিকার মোহাম্মদ আখতার হোসেন জানান, দিন দিন বড় আকৃতির এমন ষাঁড় পালনের আগ্রহ বাড়ছে মানুষের। এবার জেলায় পাঁচ থেকে ছয়টি এমন ষাঁড় আছে।

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতা খোকনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ মামলা

এ বছর রাজশাহী জেলায় ছয় লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৭টি কোরবানি যোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। এরমধ্যে এক লাখ ১৯ হাজার ২৮৬ টি গরু ও মহিষ। আর ছাগল ও ভেড়া রয়েছে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার ৭৭৫টি।


একাত্তর/আরএ