রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে সিমেন্ট ঢালাইয়ের খবর ছিলো বহুল আলোচিত। এবার কাঠের গজ-ব্যান্ডেজের ওপর সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে দরজা-জানালার কাজ সেরেছেন হবিগঞ্জের তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র মেরামতের ঠিকাদার। এরই মধ্যে এসব প্লাস্টার খসে খুলে পড়ছে দরজা-জানালার চৌকাঠ।
হবিগঞ্জ সদরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং তেঘরিয়া ইউনিয়ন ও শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চলছে দরজা-জানালা মেরামতসহ সংস্কার কাজ।
তবে এক অভিনব কৌশলে দরজা-জানালা মেরামত করছেন ঠিকাদার। কাঠ পাল্টানোর বদলে জরাজীর্ণ কাঠের ওপরেই গজ-ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দেয়া হয় হালকা সিমেন্টের প্রলেপ। এতে সিমেন্টের প্রলেপ খসে খুলে পড়ছে দরজা-জানালার চৌকাঠ।
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসাররা জানান, তাদের প্রথমে বলা হয়েছিল কি কি কাজ করা হবে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেসব কাজ করার কথা বলেছিল- তার কিছুই করা হয়নি, অভিযোগ তাদের।
শুধু তাই নয়, শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নতুন একটি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের বদলে পুরনো ট্যাংকই মেরামত করে দিয়েছে ঠিকাদার। আর সকল কাজেই ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। এধরণের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ রায় বলেন, তারা অত্যন্ত নিন্মমানের সব পণ্যসামগ্রী ব্যবহার করছেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারে নিম্নমানের কাজের কথা স্বীকার করেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, কাজের গুণগত মান ঠিক করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। যেসব জায়গায় কমতি মনে হয়েছে সেসব জায়গায় পুনরায় কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ
নিম্নমানের কাজ আর গজ-ব্যান্ডেজ দিয়ে অভিনব কায়দায় দরজা-জানালা সংস্কার নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি।
একাত্তর/আরএ