মাদারীপুর জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩১ জন করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণের হার ৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবুও লকডাউন মানার প্রবণতা নেই স্থানীয় জনগণের মধ্যে। বেশীর ভাগই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগী।
শুক্রবার (২৫ জুন) সকালেও একই চিত্র দেখা গেছে জেলার বাজারগুলোতে। লকডাউনের মধ্যেও মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে ভেঙে ভেঙে ঢাকাসহ দেশের একাধিক জেলায় যাতায়াত করছেন। বাংলাবাজার শিমুলিয়া নৌরুট দিয়ে ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পাড় হচ্ছে তারা। আজও জরুরী যানবাহন নিয়ে সীমিত আকারে চলছে ফেরি।
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, করোনার মাত্রা মাদারীপুরে দিন দিন বেড়েই চলছে। যে কারণে মাদারীপুর জেলাকে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রেড জোন হিসাবে ধরা হয়েছে। এসব বিবেচনায় মাদারীপুরে গত ২২ জুন থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, মাদারীপুর জেলাকে অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় লকডাউন চলছে। কেউ অমান্য তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশের প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছি। .
আরও পড়ুন: নির্মল রাজশাহীতে করোনার নির্মমতায় আরও ১৪ মৃত্যু
পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশ ইজিবাইক, অটো, অটোরিক্সা থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য তাদেরকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেকে অমান্য করলে তাদের ব্যাপারে আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এর আগে ২২ জুন লকডাউনের প্রথম দিনে মাদারীপুর জেলায় শনাক্তের হার ছিল ৪০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। করোনায় জেলায় মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬২৪ জন। নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৩৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৩১৩ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮০ জন। এরমধ্যে হাসপাতালের আইসোলেশনে দুইজন এবং বাকির বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে।
একাত্তর/আরবিএস