সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। সকালে ঈদের নামাজ আদায় শেষে পশু কোরবানি দেন তারা।
চাঁদপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার টোরা মুন্সিরহাট জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে এমন রেওয়াজ চালু করেছিলেন জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.)।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, জাকনী, প্রতাপপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুরের মুসল্লিরা এক দিন আগে ঈদ পালন করছেন।
এ ছাড়া মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার মতলব উত্তর উপজেলার সাড়ে পাঁচানী, দেওয়ানকান্দি পাঁচানী, সাতানী, লতুরদী, মোহাম্মদপুর, মোহনপুর, এখলাশপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ শাহরাস্তি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে এক দিন আগে ঈদ উদ্যাপন করেন মুসল্লিরা।
পটুয়াখালী
সৌদি আরবের সাথে সংগতি রেখে পটুয়াখালীর প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আজহা পালন করছে।
প্রতি বছরের মতো পটুয়াখালীর বদরপুর দরগাহ শরীফ জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদ-উল-আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি।
তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ বিশ্বের অন্য দেশের মুসলমানদের সঙ্গে একই দিনে আমরা রোজা, ঈদুল-ফিতর ও ঈদুল-আযহা পালন করে থাকি। প্রায় ১০০ বছর ধরে তা চলে আসছে। এরা সবাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও এলাহাবাদ পীরের অনুসারী।
এছাড়াও কলাপাড়া উপজেলার উত্তরলালুয়া, মাঝিবাড়ি, দেবপুর, পাটুয়া, নিশানবাড়িয়া, ইটবাড়িয়া, সাফাখালী, তেগাছিয়া, আরামগঞ্জ, পাঁচজুনিয়া, চালিতাবুনিয়া, পৌর শহরের নাইয়াপট্টি, বাদুরতলী, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া, ফুলখালী, ছোটবাইশদিয়া, রাঙ্গাবালী, কাটাখালী, বাউফল উপজেলার বগা, ধাউরাভাঙ্গা, মদনপুরা, সাবুপুরা ও আমিরাবাদ এলাকার লোকজন আজ ঈদ-উল-আজহার নামাজ শেষে পশু কোরবানি দিচ্ছে।
সাতক্ষীরা
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় সদর উপজেলার ভাড়–খালীতে আহলে সুন্নাত আল জামায়াত জামে মসজিদে ঈদ উল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মাহবুবুর রহমান।
ঈদের নামাজে সাতক্ষীরার ইসলামকাটি, গোয়ালচত্তর, ভাদড়া, ঘোনা, ভাড়–খালি, মিরগিডাঙ্গাসহ প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া সদর উপজেলার বাওখোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদেও ঈদ উল আযহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজে নারীরাও শরীক হন। নামাজ শেষে মুসুল্লিরা আল্লার নৈকট্য লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন।
মুসল্লিরা জানান, গত এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছেন।
লক্ষ্মীপুর
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে ঈদুল আযহা উদযাপিত হচ্ছে। রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারো ঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপা ও সদর উপজেলার বশিকপুরসহ ১১টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি ঈদুল আযহা উদযাপন করছেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব নোয়াগাঁও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা ইসহাক (রা.) এর অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ গত ৪৪ বছর ধরে পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনার সাথে সঙ্গতি রেখে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।
জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানান, লক্ষ্মীপুরের ১১ গ্রামে মুসল্লিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার জেলাব্যাপী ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ঈদগাঁহ্ মাঠ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঈদের নামাজের পর কোরবানি পশুর রক্ত ও বর্য নিদিষ্ট স্থানে ফেলে পরিষ্কার করার অনুরোধ জানান তিনি।
মোংলা
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে মোংলায় ঈদুল আজহা উদযাপন হয়েছে।
বুধবার সকাল ৮টায় সুন্দরবন ইউনিয়নের চটেরহাট আহলে হাদিস জামে মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজে ইমামতি করেন ঈমাম মোঃ বেল্লাল সরদার।
এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন মোংলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা শরণখোলা ও মোড়েলগন্জ থেকে আসা নারী-পুরুষ মুসল্লিরা।
নামাজ শেষে মুসাফা ও কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুসল্লিরা। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায়ের লক্ষে যে যার মত করে পশু কোরবানি করেন।
চটেরহাট আহলে হাদিস জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম নুরুল আমিন বলেন, তাদের এলাকার এ মসজিদটিতে প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে সৌদির সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন হয়ে আসছে।
একাত্তর/এসজে