ঈদের রান্না হয়নি নিহত সাংবাদিক নাদিমের বাড়িতে

বাবাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ঈদ করছে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের তিন সন্তান। হয়নি কোন কেনা-কাটা, কিংবা বিশেষ কোনো রান্না। প্রতিবার বাবার সাথে ঘুরতে গেলেও তাদের এবারের ঈদ কেটেছে নীরবেই। আর, ছেলে হত্যার বিচার চেয়েছেন নাদিমের মা-বাবা।

বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে আলেয়া বেগম। ভাবছেন ঈদের দিন দোয়া নিতে ছেলে গোলাম রাব্বানী নাদিম হয়তো বাড়ি আসবেন। কিন্তু সেই ভাবনা, বাস্তবের রূপ দেখবে না আর কোনদিন।

নাদিম হত্যার আজ ১৭ দিন। ঈদের তিন দিনের একদিনেও নাদিমের বাড়িতে ছিলো না কোনো আয়োজন। পরিবার বলছে, হত্যাকারীরা তাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।

নাদিমের বাবা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, গতবার ঈদে আমার ছেলে আমার সঙ্গে ছিলেন। এই ঈদে আমার ছেলে নেই! আমার দুইটা নাতি, ঈদে একটু মাংস পর্যন্ত খেতে পারে নাই।

দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হওয়ায় মলিন হয়ে গেছে নাদিমের কবরে রাখা ফুলের তোড়াগুলোও। বুকে কষ্ট চেপে নাদিমের সন্তানরাও বলছে, বাবার সাথে আর কোন দিনও ঘুরতে যেতে পারবেন না তারা।

নাদিমের মেয়ে জানান, প্রতিবার ঈদের আগেই তার বাবা তাকে মার্কেটে নিয়ে যেতেন। এবার তিনি কোথাও যাননি।

নাদিমের ছেলে বাবার স্মৃতিচারণ করে বলেন, গতবার ঈদের সময় বাবার সাথে বাজারে গিয়ে গরু দেখে, কিনে এনেছিলাম। এবার আমাদের কোন ঈদ নেই।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগার আছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সেই বাবু চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া তার ছেলে রিফাতসহ এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

নাদিমের মা, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের কাছে অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

১৪ জুন রাতে বকশীগঞ্জ বাজারের পাটহাটি এলাকায় একাত্তরের সংবাদদাতা নাদিমের ওপর হামলা হয়। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

একাত্তর/আরএ