চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছেন স্বামী ও তার স্বজনরা। শনিবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, নিহত সানোয়ারা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের মো. সুজনের স্ত্রী।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় সাত বছর আগে সানোয়ারার সাথে সুজন আলীর বিয়ে হয়। সানোয়ারা সুজন আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।
শনিবার বিকেলে সানোয়ারা গলায় দড়ি দিয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে সুজনের পরিবার। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে তারা মরদেহ রেখে পালিয়ে যান।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আলী জানান, দুর্লভপুর থেকে কয়েকজন সানোয়ারা নামে এক গৃহবধূকে নিয়ে আসলে পরীক্ষানিরীক্ষার পর তিনি জানান, হাসপাতালে রোগী আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এসময় রোগীর স্বজন ও স্বামী পালিয়ে গেলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
এদিকে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে সানোয়ারার গলায় আঙ্গুলের দাগ পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে কেউ শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে।
অন্যদিকে মৃত সানোয়ারার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তার দুই সন্তানের একটি দেড় বছরের মেয়ে এবং অপরটি চার বছরের ছেলে ইয়াকুব। মায়ের কথা জানতে চাইলে প্রতিবেশির কোলে থাকা ইয়াকুব বলে, ‘মাকে হাঁর (আমার) আব্বা মেরে ফেলেছে।’
স্থানীয় মনিরুল জানান, সকালে ননদ নিপা ও নিশার সাথে টিউবওয়েলের পানি নেয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হবার পর দুপুরে সানোয়ারার চিৎকার শুনতে পান তারা। পরে স্থানীয়রা গ্রাম পুলিশকে খবর দিলে গ্রাম পুলিশের সহায়তার স্বামী ও তার স্বজনরা সানোয়ারাকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: জামালপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
নিহতের বোন রহিমা বেগম বলেন, সুজনের আগের স্ত্রী ও মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হলেও আগের স্ত্রীকে ঘরে তুলতেই সানোয়ারাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী জোবায়ের আহমেদ জানান, হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একাত্তর/এসজে