দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে। ঈদের পর, প্রথম হাটে অল্প চামড়া নিয়ে ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এলেও, নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে গরুর চামড়া। আর, ছাগলের চামড়ার দাম নাই বললেই চলে।
গত কয়েক বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার ঠিক দাম মেলেনি যশোর রাজারহাট মোকামের তিনশ'র বেশি আড়তে। গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে কমে। এতে লোকশানে পড়বেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আকিল আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছরের মত এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার যৌক্তিক দাম মেলেনি এখানে। গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে কমে।
গরুর চামড়া মানভেদে ৩০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও দাম বলছে না ছাগলের চামড়ার। ফলে অনেকে ছাগলের চামড়া ফেলে দিচ্ছেন বা আড়তে ফেলে রেখে যাচ্ছেন।
আড়ৎদারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনছেন তারা। আর, ট্যানারি প্রতিনিধিরা বলছেন, চামড়ার মানগত সমস্যা থাকায় কিনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ট্যানারী মালিকদের পাশাপাশি প্রান্তিক ব্যবসায়ীদেরও ঋণ দেওয়ার দাবি তুলেছেন চামড়া ব্যবসায়ী নেতারা।
আড়ৎদার হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, একটি ৪০ ফিটের চামড়ার দাম যা হওয়া উচিৎ সেই টাকা দিয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ছোট আকারের চামড়া কিনেছেন। এরপর হাটে এসে বেশি দামে বিক্রি করতে চাইছে। তারা বলেন, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ঋণ দিলে চামড়া দাম বাড়তো।
এদিকে চামড়া পাচার ঠেকাতে নজরদারিসহ কঠোর বাজার মনিটরিং নেমেছে প্রশাসন। রাজারহাট মোকামে খুলনা বিভাগের দশ জেলা ছাড়াও ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর এবং ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন।
একাত্তর/আরবিএস