শেরপুরে বাড়ছে চায়না জালের ব্যবহার। এতে হুমকির মুখে পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। মৎস্যজীবীরা বলছেন, পোনা থেকে শুরু করে ছোট বড় কোনো মাছই ছাড়া পায় না চায়না জাল থেকে। অবৈধ এই জাল বন্ধ না হলে আগামীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ খুঁজে পাওয়া যাবে না। হুমকিতে পড়বে জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য।
নদীর কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিছানো চায়না জাল। শেরপুরের ৫ উপজেলায় বিভিন্ন নদ নদীতে ধরা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। দিনের বেলাতেই অবৈধ এই জাল দিয়ে চলছে মাছ শিকারের মহোৎসব।
এলাকাবাসী জানান, নদীর বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল। পোনা থেকে শুরু করে ছোট বড় কোনো মাছই এই জাল থেকে ছাড়া পায় না। শুধু নদীতেই নয়, খাল ও বিলে একই পন্থায় মাছ ধরা হচ্ছে।
জেলেরা জানান, চায়না জালের ব্যবহার বাড়ায় সাধারণ জাল দিয়ে তারা আগের মতো মাছ পান না। এটি বন্ধ না হওয়ায় দেশিয় মাছ বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়ছে জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য।
জেলারা জানান, এই জালে সাপ, ব্যাঙ, মাছ, মাছের ডিম সব কিছু ধরা পড়ে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, চায়না দুয়ারী জাল এক ধরনের ফাঁদ। এর মধ্যে রেণু পোনাসহ সকল মাছ ও প্রাকৃতিক জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। এটি বন্ধে ব্যবস্থা নেবে মৎস্য বিভাগ।
শেরপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার কর্মকার বলেন, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় আমরা মোবাইল কোর্ট বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এছাড়া আমাদের জনপ্রতিনিধিদেরও আমরা এ জাল বন্ধে জেলেদের উদ্বুদ্ধ করতে পরামর্শ দিয়েছি।
আরও পড়ুন: ডুবে যাওয়া জাহাজের অবশিষ্ট তেল উদ্ধারের চেষ্টা
বাজারে প্রতিটি চায়না দুয়ারী জাল বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যারা এই অবৈধ জাল আমদানি করছে এবং বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জেলেদের।
একাত্তর/আরএ