এই বর্ষায় সিরাজগঞ্জে যমুনা পাড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। গত দুই সপ্তাহের ভাঙনে এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরের অন্তত দুইশ’র বেশি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
আর, সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে যমুনা নদীর ডান তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন পাউবোর ‘মেঘাই সলিড স্পার’-এর প্রায় ৪০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে।
হুমকির মুখে রয়েছে আরও শতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাডনা। সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকেই খোলা জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীতে বাড়ছে পানি। স্রোতের সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর এবং শাহজাদপুর নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা মেলে এমন দৃশ্য।
সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে যমুনা নদীর ডান তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন পাউবোর ‘মেঘাই সলিড স্পারের’ প্রায় ৪০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে।
শুক্রবার ভোরে সলিড স্পার নদীতে বিলীন হয়ে যায়। উজানে পানি বাড়ায় যমুনার তলদেশে কয়েক দিন ধরে প্রবল ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে সলিড স্পার হুমকির মুখে পড়ে।
ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক নিক্ষেপ করে। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার সলিড স্পারের প্রায় ৪০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে খিদ্রচাপড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও আশপাশের এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়ি।
এলাকাবাসী জানান, গত দুই সপ্তাহে সম্পদ হারিয়েছেন দুইশ’ পরিবার। তাদের অভিযোগ, যমুনার পানি বেড়ে ধসে পড়ছে বাঁধও।
ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প চালু থাকলেও তা কোন কাজে আসছে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকেও ভাঙনের জন্য দায়ী করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: ঢেউয়ের তোরে রাঙ্গাবালীতে খেয়াডুবি, একজন নিখোঁজ
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। সিসি ব্লক তৈরির কাজ চলছে। তবে তা ব্যবহার করা হবে চলতি বর্ষা মৌসুমের পর।
প্রায় দেড় বছর আগে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর এনায়েতপুর-শাহজাদপুরে নদী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা।
একাত্তর/আরএ