স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্বামীর আত্মসমর্পণ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন এক স্বামী। 

শনিবার রাত ৮টার দিকে নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা গেছে, নিহত শেফালী বেগম (২৫) গাইবান্ধা সদরের মোল্লাপাড়ার মৃত কাদের মোল্লার মেয়ে। আটক মহসীন আলী (২৮) নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কলেজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। 

স্থানীয়রা জানায়, চার বছর আগে মহসীন আলীর সাথে শেফালী খাতুনের বিয়ে হয়। মহসীন আলী কোনো কাজকর্ম করত না। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্ত্রীর সাথে প্রায়ই ঝগড়া লাগতো। পাশাপাশি শেফালীর কোনো সন্তান না হওয়ায় মহসীন ক্ষুব্ধ ছিল। 

শনিবার সন্ধ্যায় ঝগড়ার একপর্যায়ে মহসীন আলী স্ত্রীর ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে শেফালীকে হত্যা করে। পরে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রমাণ করতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে সে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা শেফালীর হাতে একটি চিরকুট ছিল। এতে লেখা ছিল ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, কারো কোনো দোষ নেই’। 

পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধারের পর মহসীন প্রতিবেশীদের জানিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে।

গাইবান্ধা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান জানান, এটি একটি খুনের ঘটনা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘাতক স্বামী অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে হতাশাগ্রস্ত ছিল। সে স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করত। এছাড়াও স্ত্রী ‘কুফরি কালাম’ করত, যা তার পছন্দ ছিল না। এসব কারণে সে স্ত্রীকে হত্যা করে। তবে পুরো ব্যাপারটিকে আরও ভালোভাবে তদন্ত করা হবে।

আরও পড়ুন: বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, আহত ৩০

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পরপর থানায় এসে স্বামী মহসিন আলী হত্যার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছে।


একাত্তর/এসজে