লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষে কৃষকদল কর্মী নিহত

লক্ষ্মীপুরে পুলিশ-বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুলিশসহ দেড় শতাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে মো. সজিব নামে এক কৃষকদল কর্মী নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে লক্ষ্মীপুর বেসরকারি আধুনিক হাসপাতালের সামনে, শহরের সামাদ মোড়, বাগবাড়ী ও তেরবেকী ও উত্তর তেহমুনী, চৌধুরী সুপার মার্কেট এলাকায় আলাদা আলাদা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর শহরে থমথমে পরিস্থতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে বিএনপি পদযাত্রা বের করে। অপরদিকে শহরের উত্তর তেহমুনী থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শান্তি মিছিল বের করে। আওয়ামী লীগের শহরের চকবাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দক্ষিণ তেহমুনী দিকে যেতে চাইলে নেতাদের হস্তক্ষেপে মিছিল চকবাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় আতংকে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।

জেলা বিএনপির সদস্য সদস্য সচিব হাসিবুর রহমান বলেন, বিএনপির মিছিল শহরের আধুনিক হাসপাতালের সামনে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় নেতাকর্মীরা বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে গেলে পুলিশ গুলি ও টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে। এতে বিএনপির প্রায় শখানেক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলায় ১৫ জন বিএনপির নেতাকর্মী আহত হয়।

তিনি বলেন, সামাদ স্কুল মোড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সজিব নামে ওই কর্মীর ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মদিনউল্লাহ হাউজিংয়ের একটি বাড়ির নিচে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া মো. গোলাম ফারুক পিংকু জানান, আওয়ামী লীগের ডাকা শান্তি সমাবেশে যাওয়ার পথে বিএনপির হামলায় লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলামসহ ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল এ পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে আধুনিক হাসপাতালের সামনে দিয়ে হাইওয়ে সড়কে যাওয়ার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ৪৫ মিনিট ফাঁকাগুলি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। 


একাত্তর/কেএসএইচ/