জয়পুরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গরুর লাম্পি স্কিন রোগের প্রকোপ

জয়পুরহাট, হিলি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গরুর লাম্পি স্কিন রোগ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে এ রোগে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা। এতে খামারি ও কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। অনেকে মৃত গরু মাটি চাপা না দিয়ে আশপাশের নদীতে ফেলে দিচ্ছে। এতে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি।

জয়পুরহাট জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে গরুর প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ লাম্পি স্কিন ডিজিজ। এই রোগে প্রথমে গরুর গা গরম হয়ে যায়। তারপর শরীরজুড়ে ছোট ছোট মাংসপিণ্ডের মতো ফুলে ওঠে, এসময় খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয় আক্রান্ত গরু। গত কয়েক দিনে এই রোগে জয়পুরহাটে অন্তত একশ গরু মারা গেছে।

কৃষকরা জানান, তাদের গ্রামের সবাই এ রোগ নিয়ে দুঃচিন্তায় আছেন।

মৃত গরু ফেলা হচ্ছে নদী কিংবা খোলা জায়গায়। এতে সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বাড়ছে, বলছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারি হাসপাতালের ভেটেনারি সার্জন ডা. মো. ফয়সাল রাব্বী জানান, গরু মারা গেলে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

দিনাজপুরের হিলিতেও প্রতিদিন এই রোগে গরু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিলেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ গরুর মালিকদের।

তারা জানান, পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, এই রোগের কোন চিকিৎসা নেই। তারা প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা দেন- যা তেমন কাজে আসে না।

গরুর এই সংক্রামক রোগে আতঙ্কিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খামারি ও কৃষকরা। এখানেও তিনশ’র বেশি গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজে ভুগছে।

মশা-মাছি ও খাবারের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ভাইরাসজনিত এ রোগ ছড়ায়। তাই আক্রান্ত পশুকে আলাদা স্থানে রেখে চিকিৎসা দেবার পরামর্শ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন: দফায় দফায় অভিযানেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। আমরা মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন পর্যন্ত লাম্পি স্কিন ডিজিজে পাঁচটি গরু মারা গেছে।


একাত্তর/আরএ