ভয়াবহ বৃষ্টি ও বন্যায় বিপর্যস্ত বান্দরবান। থানচির সাথে সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন। রুমা উপজেলার সড়কেরও একই অবস্থা। পাহাড় ধসে মারা গেছেন ১০ জন, আহত একশ’রও বেশি মানুষ। বিদ্যুৎ নেই, পানযোগ্য পানির তীব্র সংকট। আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়াও খোলা আকাশের নিচে রয়েছে অনেক পরিবার। অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের জীবন।
ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের ৩০ হাজারের বেশি বই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে বিনষ্ট হয়েছে গ্রন্থাগার কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ১৯৮৮ সাল থেকে বাঁধাই করে রাখা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকার কপি।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের চিম্বুকের পোড়া বাংলাসহ কয়েকটি এলাকায় ধসে পড়েছে সড়ক। এতে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থানচির সাথে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ। একই অবস্থা বান্দরবান-রুমা সড়কেরও। মাটি ধসে পড়ায়, এখানেও বন্ধ যান চলাচল।
চিম্বুক এলাকার বাসিন্দা ইয়াং ম্রো বলেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে বান্দরবান-রুমা ও থানচি সড়কের বেশ কিছু এলাকা ভেঙে গেছে। সড়কের বেশিরভাগ স্থানে ধসে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
টংকাবতি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্লুকান ম্রো জানান, ভারী বর্ষণের কারণে সড়ক ধসে যাওয়ায় সড়ক পথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, এলাকাবাসী খুবই অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
লামা, রুমা রোয়াংছড়ি উপজেলাতেও সড়কের একই অবস্থা। এখনো বিদ্যুৎ নেই অনেক স্থানে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় রুমা ও থানচি উপজেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়ক মেরামতে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনীর ২০ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন।
খাবার পানির তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্নস্থানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে গাছ ভেঙে পড়ার কারণে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বিভিন্নস্থানে আর মোবাইল ও ইন্টারনেট এর গতি অনেকটাই কম।
জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, বন্যায় বান্দরবানের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আর এই ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা এবং রুমাও থানচির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করি দ্রুত সময়ে বান্দরবান আগের রূপে ফেরত আসবে।
আরও পড়ুন: সিলেটে ছাত্রলীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
বান্দরবান জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, টানা বর্ষণে গত এক সপ্তাহে বান্দরবান সদর, লামা, আলী কদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধস ও পানিতে ভেসে ১০জন নিহত ও ৩১ জন আহত হয়েছে আর পাহাড় ধসে ১৪০৬টি ঘর সম্পূর্ণ ও ৫১৭৩টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য সহযোগিতা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রশাসন কাজ করছে বলে জানায় প্রশাসন।
একাত্তর/এসজে