কুলাউড়ায় জঙ্গি আস্তানা থেকে ছয় কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বিভিন্ন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ছয় কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য ও পিস্তলের ১৪টি গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট-সিটিটিসি।

অভিযান শেষে মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশ লাইনে সাংবাদিকদের সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সিটিটিসি, সোয়াত, মৌলভীবাজারের গোয়েন্দা পুলিশ ও কুলাউড়া থানার পুলিশের ৬০ সদস্যের দল যৌথভাবে কালাপাহাড় এলাকায় একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করে।

প্রায় ৯ ঘণ্টার এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০টির বেশি পাহাড় ডিঙিয়ে ওই আস্তানায় পৌঁছায়। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। জায়গাটি দুর্গম হলেও তারা খুব সহজেই সেখানে যাতায়াত করতে পারতো।

জঙ্গিরা এটাকে তাদের ভাষায় ‘আনসার হাউজ বলে জানান সিটিটিসি প্রধান। তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে ৯৫টি ডেটোনেটর, ছয় কেজি বিস্ফোরক এবং ১৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

জঙ্গিদের দলনেতা ইমাম মাহমুদকে আটক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিটিটিসি প্রধান বলেন, তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছেন, যা তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বলা যাবে না। অভিযানের স্বার্থে তারা অনেক তথ্যই দিতে পারবেন না।

এ পর্যন্ত জঙ্গি সংগঠন ইমাম মাহমুদের কাফেলার মোট ৪০ সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান আসাদুজ্জামান।

সোমবার সকালে কর্মধা ইউনিয়নের আছকরাবাদ বাজার এলাকায় স্থানীয়রা ১৭ জনকে জঙ্গি সন্দেহে আটক করে। পরে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিটিটিসি।

মঙ্গলবার সকালে আটক কয়েক জঙ্গিকে নিয়ে পাহাড়ের গভীরে অভিযানে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার রাত থেকে কর্মদা ইউনিয়নের পূর্ব টাট্টিওয়ালি গ্রামের বাইশালী বাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ জন নারী-পুরুষ ও তিন শিশুকে আটক করে সিটিটিসি। তারা জানায় আটকরা নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলার সদস্য।

গত ৭ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে ১১ আগস্ট ফরহাদ আরো একজনকে ঢাকা থেকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্য ধরেই শুক্রবার কুলাউড়ার পূর্ব টাট্টিওয়ালি এলাকায় অভিযানে নামে সিটিটিসি।

 

একাত্তর/কেএসএইচ