নড়াইলে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৮২ শতাংশ

নড়াইলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় জেলায় শনাক্তের হার ৮২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এখন পর্যন্ত এটিই জেলায় সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৬২৮। 

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মঙ্গলবারের (২৯ জুন) প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। 

এদিকে, জেলার কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুয়ায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কালিয়া উপজেলায় ২১ জনের মধ্যে ২০ জন শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৯৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। 

আরও পড়ুন: রামেকে ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনের মৃত্যু, চলতি মাসেই মারা গেছেন ৩৫৫

অন্যদিকে, লোহাগড়া উপজেলায় ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই উপজেলায় শনাক্তের হার ৯৪ দশমিক ১২ শতাংশ। 

তবে, তুলনামূলকভাবে সদর উপজেলায় শনাক্তের হার কিছুটা কম। এখানে ২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জন শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ। জেলায় বর্তমানে আরটি-পিসিআর, র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন ও জিন এক্সপার্ট—এই তিন পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংক্রমণ রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আবদুল গনি জানান, মঙ্গলবার (২৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এই টেস্টে যাদের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে, তাদের জিন এক্সপার্ট টেস্ট করা হয়েছে। দুই পদ্ধতি মিলিয়ে আজ ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জন শনাক্ত হয়েছে। 

তিনি বলেন, মানুষের অসচেতনতার জন্য ভয়াবহ এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। লোকজন প্রশাসন দেখলে মাস্ক পরছেন। করোনায় আক্রান্ত রোগীও তথ্য গোপন করে রাস্তায়, বাজারহাটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উপসর্গ দেখা দিলেও নমুনা পরীক্ষা না করে নিজে দোকানে গিয়ে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। এতে সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

এদিকে, নড়াইল জেলায় গত সোমবার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নড়াইল সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ৯ দিনের মধ্যে ৭ দিনই সংক্রমণের হার ৩৪ থেকে ৪৮ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এর আগের সপ্তাহে (১৩-১৯ জুন) ৭ দিনের মধ্যে ৫ দিন শনাক্তের হার ৩৫ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। তার আগের সপ্তাহেও শনাক্তের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। 


একাত্তর/এসজে