নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে সাথে নিয়ে স্বামীকে হত্যা করেছেন স্ত্রী। মঙ্গলবার দিনগত রাতে নিহতের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল কুদ্দুস (৫১) উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকপুর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে।
এ ঘটনায় কুদ্দুসের স্ত্রী সুরমা আক্তার ও তার প্রেমিক আবুধাবি প্রবাসী মো. ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় । একই দিন ভোর রাতে পুলিশ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের চকোইয়াদের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার কর হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্যার আদালতে আসামীদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, নিহত কুদ্দুসের বাড়িতে টাইলস করার সময় তার স্ত্রী সুরমা আক্তার টাইলস মিস্ত্রি ইসমাইলের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পরেন। পরে ইসমাইল বিদেশ চলে যায়। বিদেশ চলে যাওয়ার পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। গত ৬ সেপ্টেম্বর পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে ইসমাইল গোপনে দেশে আসেন। এরপর তিনি পাশের মোহাম্মদুপর গ্রামে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি আত্মগোপনে থাকে। সেখান থেকে তিনি সুরমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
মঙ্গলবার রাতে কুদ্দুস ঘরের বাইরে থাকাকালীন ইসমাইল ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। এরপর রাত ১১টার দিকে সুরমা ইসমাইলকে ডেকে ছাদে নিয়ে যায়। নিচে নামার সময় ইসমাইল ছাদে থাকা বৈদ্যুতিক তার বেয়ে নিচে নামে। তারপর কুদ্দুসের শোয়ার ঘরে ঢোকে। সুরমা তার স্বামীর পায়ে বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে এক মাথার সুইচের সাথে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়ে স্বামীকে হত্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক এক ঘন্টা পর সুরমা চিৎকার শুরু করে বলেন, তাকে আটক করে ডাকাত দল তার স্বামীকে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার ভোর রাতের দিকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সাথে ভিকটিমের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় যায়। পরে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুরমা জানান প্রেমিকসহ তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পুলিশ তদন্তে নেমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়েছে।