মহানন্দায় পাথর তোলা নিয়ে বিজিবি-শ্রমিক বিরোধ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তে মহানন্দা নদীতে পাথর তোলাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও স্থানীয় পাথর শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ, বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। 

শনিবার সকালে ওই নদীর ভাদ্রুবাড়ি এলাকায় শ্রমিকরা পাথর তুলতে গেলে তাতে বাধা দেয় বিজিবি। এ সময় বিজিবি সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে পাথর শ্রমিকরা। পরে বিজিবি পাথর ব্যবসায়ী ও ট্রাক্টর চালকসহ চার জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। 

আটকরা হলেন, তেঁতুলিয়ার ভাদ্রুবাড়ি এলাকার ট্রাক্টর চালক সোলেমান আলী (৩০), একই এলাকার পাথর ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (২৪), রণচন্ডী এলাকার ট্রাক্টর চালক অমিত হাসান (২৩) ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা এলাকার ট্রাক্টর চালক শিমুল হাসান (২৮)।

শ্রমিকদের দাবি, এসময় বিজিবির লাঠিচার্জে অনেক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনকে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ভাদ্রুবাড়ি এলাকার আকলিমা আক্তার বলেন, সকালে শ্রমিকরা নদীতে পাথর তুলতে গিয়েছিল। ১০টার সময় তারা চলে আসে। পরে ট্রাক্টরগুলো পাথর আনতে গেলে বিজিবি সদস্যরা তা নিয়ে ভারতীয় সীমান্তে রেখে আসে। কিছুক্ষণ পর তারা ট্রাক্টরগুলো নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমরা ট্রাক্টরগুলো নিয়ে নেই। পরে প্রশাসনের লোকজন আসে। তারা বসে বিষয়টি সমাধান করছিল। 

তার দাবি, শেষ মুহূর্তে তিন গাড়ি বিজিবি এসে আমাদের মারধর শুরু করে। 

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, গত তিন আগস্ট জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি মিটিং হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, বর্ডার ক্রস করে পাথর তোলা যাবে না। মহানন্দায় পাথর তোলা নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিজিবি ও পাথর শ্রমিকদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, আজ বিজিবি লাঠিচার্জ করতে উদ্যত হয়েছিল। কিন্তু আমরা তাদের থামিয়েছি। এছাড়া আমি পাথর শ্রমিক সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মিটিং ডেকেছি। 

পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল যুবায়েদ হাসান বলেন, সীমানা অতিক্রম করে একটি চক্র পাথর তুলতে গেলে বিজিবি বাধা দেয়। এ সময় তারা আমাদের ৬/৭ জন্য সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এর ফাঁকে তারা সীমান্ত থেকে ট্রাক্টরগুলো সরিয়ে নেয়। পরে আমাদের সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় চার জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। লাঠিচার্জের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যে।