চুয়াডাঙ্গায় করোনার লাগাম টানতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। গত কয়েকদিন ধরে তুলনামূলক কম নমুনা সংগ্রহ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শুক্রবার (২ জুলাই) জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিন ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৫ শতাংশ। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অনাবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ তিনজনের মৃত্যুর কথা জানালেও, জেলা ও জেলার বাইরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলার জিন্নাত আলী (৫৫) নামের একজন, যিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এবং একই দিনে শহরের জিন্নতলা পাড়ার আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিযোগ, সেচ্ছাসেবক ও নার্স ছাড়া সময়মত চিকিৎসকের দেখা মেলে না। দিনে যদিও একবার চিকিৎসকের দেখা মেলে, তাও তারা দূর থেক উঁকি দিয়ে চলে যান।
এছাড়া হাসপাতাল এলাকায় করোনা রোগীকে ঘিরে এ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসা এখন তুঙ্গে। অক্সিজেন মালিক ও এ্যাম্বুলেন্স চালকদের একটি সিন্ডিকেট করোনা রোগী বহণে রোগীদের কাছে মাত্র ১২ কিলোমিটার রাস্তার জন্য এক হাজার টাকার ছয় হাজার টাকা আদায় করছে। ঢাকায় যেতে খরচ করতে হচ্ছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। প্রতিটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ভাড়া এক হাজার ৫০০ টাকা। আইসিইউ বেড সম্বলিত একটি এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৪৫ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন: অ্যাম্বুলেন্স-পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ৪
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১১৪ জনের এদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরের হাসপাতালে। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালের রেড জোনে ৭১ জন এবং ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও শতাশিক রোগী। জেলায় মোট রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৯৫ জন।
একাত্তর/ আরবিএস