‘পর্যটনে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
কিন্তু ‘প্রকৃতির কন্যা’ নামে পরিচিত সিলেটের পর্যটন শিল্প কতটুকু এগিয়েছে-এই প্রশ্ন রেখেই পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ার কারণে পিছিয়ে আছে সিলেটের পর্যটন শিল্প।
তাই অপার সম্ভাবনার এই অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারের সহযোগিতা চাইছেন তারা।
সিলেটের ভোলাগঞ্জ। যেখানে সাদা পাথরের ওপর দিয়ে পাহাড়ের থেকে নামছে স্বচ্ছ পানির ধারা। এই ঠাণ্ডা পানিতে পা ভেজালে মন চলে যায়, মন ভেসে যায়।
পাহাড় ঘেরা স্বচ্ছ পানির পিয়াইং নদী, ঝর্ণা, জলাবন রাতারগুল, নীল জলের লালাখাল, বিছাকান্দিসহ পুরো সিলেটকে প্রকৃতি সাজিয়েছে আপন মনে
পর্যটকদের কাছে সিলেট সবসময়ই পছন্দের তালিকায় থাকলেও এসব জায়গায় যেতে পোহাতে হয় ঝক্কি। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি নেই পর্যাপ্ত থাকার ব্যবস্থা। সাথে রয়েছে নিরাপত্তার অভাব।
সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, ‘সিলেটে যদি একটা পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আমরা সিলেটে করতে পারি, তাহলে প্রশাসন এবং আমরা মিলে এটা পরিচালনা করতে পারবো।’
আন্তর্জাতিক মানের হোটেল মোটেল না থাকায় বিদেশি পর্যটক একেবারেই কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটনের বিকাশে সিলেটে দরকার নতুন পরিকল্পনা।
এফবিসিআইয়ের পরিচালক ফালাহ উদ্দিন আলি আহমদ, বলেন, ‘কীভাবে আমি নৌকার টাকা আদায় করবো, কীভাবে পার্কিংয়ের টাকা আদায় করবো, কীভাবে মানসম্পন্ন হোটেল করবো, স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা করবো। সবকিছু আমরা করে দিতে রাজি আছি। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এসব প্রস্তাব পাস হয় না।’
এখানকার পর্যটনের বিকাশে প্রবাসী বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের তরফে উদ্যোগ বাড়ানোর ওপরে গুরুত্ব দিচ্ছেন সুশীল সমাজ।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, ‘সিলেটে অনেক অলস টাকা পাড়ে আছে। পর্যটন খাতে হোটেল-মোটেল করে ভালো বিনিয়োগ আসতে পারে। আমার জানা মতে, যেসব বিনিয়োগ হয়েছে তারা ভালো ব্যবসা করছে।
শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই সিলেট হবে পর্যটনের অন্যতম এলাকা, এমনটাই আশা সবার।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পালন করছে।