বিলীন হচ্ছে কুয়াকাটার বন, আকর্ষণ হারাচ্ছে সৈকত

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের উঁচু বালুর ঢিবি ধসে উপড়ে পড়ছে শত শত গাছ। হুমকিতে পড়ছে সৈকতের প্রাণপ্রকৃতি। সৈকতের প্রাকৃতিক সবুজ দেয়াল ক্রমশ বিলীন হওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। এখানে রয়েছে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার পৃথিবীর একমাত্র সৈকত।

যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শেকড় উপড়ে মুখ থুবড়ে সৈকতে পড়ে আছে বড় গাছ। জোয়ারে সেগুলো ভেসে যাচ্ছে সাগরে। এভাবে গাছ উপড়ে পড়ার কারণ সৈকতের বালু ক্ষয়।

এক যুগ আগেও কুয়াকাটার ১৮ কিলোমিটার সৈকত জুড়ে ছিলো নারিকেল, ঝাউ, শাল বাগানসহ নানা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। 

ছিলো নানা বন্যপ্রাণী, অতিথি পাখি। নারিকেল-শাল বাগানের পুরোটাই আজ বিলীন, ইকোপার্কও হারিয়ে যাচ্ছে সাগরে।

সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটায় সৈকতের গাছের মূল থেকে বালু সরে শিকড় বেরিয়ে রয়েছে। কোনো রকম দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু গাছ। 

সৈকতে বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য গাছের মূল। জোয়ারের স্রোতে ঢেউয়ের আঘাতে বালুতে লুটিয়ে পড়ছে বড় বড় গাছ।

সৈকতে পড়ে থাকা গাছগুলো উপকূলের লোকজন কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আর নিচের অংশ সৈকতেই পড়ে রয়েছে। সৈকতে ভাঙনের কারণে বিলীন হচ্ছে বনের গাছ।

শুধু বন নয়, ক্ষতবিক্ষত হয়ে ইতিমধ্যে সৈকত লাগোয়া ইকোপার্কের দুই-তৃতীয়াংশও অংশ বিলীন হয়ে গেছে। ফলে পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণ হারাচ্ছে কুয়াকাটা।

কুয়াকাটায় প্রানপ্রকৃতি নিয়ে কাজ করা ইকো ফিস-টু প্রকল্পের সহকারি গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলছেন, বনাঞ্চলের গাছগুলো উপড়ে পড়ায় কচ্ছপের বংশবিস্তারে বিরূপ প্রভাব পড়বে। হুমকিতে পড়বে লাল কাঁকড়ার জীবনযাপন। যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে প্রকৃতিতে।

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানান, শিগগিরই সৈকত রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে, সাগর পাড়ে তৈরি হবে বনাঞ্চল। 

পরিবেশবিদসহ সচেতন মহলের দাবি, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।