নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১৭ ঘন্টা ধরে জ্বলছে সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারখানায় লাগা আগুন। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে কারখানার ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের স্বজনরা কারখানার বাইরে বিক্ষোভ করেছেন। এসময় পুলিশের সাথে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
শুক্রবার (৯ জুলাই) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানা এলাকায় ভিড় বাড়ছে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, অগ্নিকান্ডের পর কারখানার ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকরা মোবাইলে তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও দীর্ঘক্ষণ ধরে আর কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, এমনকি তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এসময় কারখানার সামনে জড়ো হওয়া অন্যান্য শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানার মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়ার কারণে অনেক শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েছে।
জানা যায়, দুই সপ্তাহ আগেও একবার এই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কারখানাটিতে প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কাজ করে এবং তাদের একটি বড় অংশ শিশু শ্রমিক। এদিকে টানা ১৭ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় কারখানার ছয়তলা ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট কাজ করছে। ভোরের দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পরে আবার তা বেড়ে যায়।
শুক্রবার সকালে ছয়তলা ভবনটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার সামনের দিকে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ভবনের এই অংশে সেমাই কারখানা ও কার্টনের গুদাম রয়েছে বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর ছয়তলা কারখানাটির নিচতলার একটি ফ্লোরে কার্টন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত। ধীরে ধীরে সে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করে। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেয়। আবার অনেকে আতঙ্কে ছাদ থেকে লাফ দেন। এসময় ঘটনাস্থলে রানী ও মিনা আক্তার নামের দুই নারী নিহত হন। পরে ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন নামের আরও এক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতল ও ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৩০ জন।
একাত্তর/আরবিএস